Home যুদ্ধের গল্প “আই ডোন্ট মাইন্ড ইফ ইট ইজ ওয়ার” – ১৯৭১ সালের ২৫ শে এপ্রিল তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এক গোপন মিটিং এ স্থলসেনার প্রধান কে যখন জানিয়েছিলেন যে যুদ্ধ হলে হোক তিনি পরোয়া করেন না,

“আই ডোন্ট মাইন্ড ইফ ইট ইজ ওয়ার” – ১৯৭১ সালের ২৫ শে এপ্রিল তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এক গোপন মিটিং এ স্থলসেনার প্রধান কে যখন জানিয়েছিলেন যে যুদ্ধ হলে হোক তিনি পরোয়া করেন না,

by banganews

“আই ডোন্ট মাইন্ড ইফ ইট ইজ ওয়ার” – ১৯৭১ সালের ২৫ শে এপ্রিল তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এক গোপন মিটিং এ স্থলসেনার প্রধান কে যখন জানিয়েছিলেন যে যুদ্ধ হলে হোক তিনি পরোয়া করেন না, ঠিক তখনই পূর্ব পাকিস্তানে অসংখ্য বাঙালির কালো আকাশে দেখা দিয়েছিল আশার আলো। বাংলাদেশ নামে কোনো দেশ তখন ছিল না। পাকিস্তানের পূর্বভাগে যেসব মানুষরা থাকতেন তাদের অপরাধ ঠিক কি ছিল? তারা বাংলা বলতেন। আর পশ্চিম এর মানুষদের থেকে তাদের সংস্কৃতি , রুচিবোধ কিছু আলাদা। দেশের সরকার তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে ছিল বহুদিন। শুধু তাই নয় এক সময় থেকে শুরু হল অকথ্য অত্যাচার। পাকিস্তানের সেনাদের বিরুদ্ধে সাহসী প্রতিবাদ জানাতেই শুরু হয় নিষ্ঠুর নিধন। ঢাকার সাধারণ নাগরিক, ছাত্র, শিক্ষক থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবী, পুলিশ ও ই.পি.আর কেউ বাদ পড়েনি। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়লে একটি জনযুদ্ধের আদলে গেরিলাযুদ্ধ তথা স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা ঘটে। মাথার উপর ছাদ নেই। সব সময় রয়েছে প্রাণের আশঙ্কা। এমত অবস্থায় প্রাণ নিয়ে পালানো ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না। তাই ভারতে ক্রমাগত বাড়তে থাকে পূর্ব পাকিস্তান থেকে শরণার্থীর সংখ্যা। ভারতে শরণার্থীর সংখ্যা হয়ে যায় দশ লাখ! ক্রমশ চাপ বাড়তে থাকে সরকারের ওপর।

এমত অবস্থায় প্রধান মন্ত্রী বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেন। তিনি দেশের সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত করতে থাকেন যুদ্ধের জন্য। অন্য দিকে আন্তঃরাস্ট্রীয় ক্ষেত্রে তিনি পাকিস্তানে আটকে থাকা বাঙালিদের শোচনীয় অবস্থার কথা আলোচনা করে ভারত ও পূর্ব পাকিস্তানের মানুষদের জন্য সমর্থন জোগাড় করতে চেষ্টা করতে থাকেন। এসময় ইউনাইটেড স্টেটসের রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সন মুক্তিযুদ্ধকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার হিসেবে উল্লেখ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের কিছুই করার নেই বলে অভিমত প্রকাশ করেন। ইন্দিরা গান্ধী এই বিবৃতির সমালোচনা করে বলেন যে গণহত্যা পূর্ব পাকিস্তানে চলছে তা নিন্দনীয় শুধু তাই নয় সেখানে যা চলছে তার সরাসরি প্রভাব পরছে ভারতে। ভারতে যে বিপুল শরণার্থীর স্রোত ঢুকছে, সেই ভার বহন করা ভারতের ক্ষমতার বাইরে আর মানবিকতার দিক থেকে জাতি সঙ্ঘের উচিত প্রত্যক্ষ্য ভাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া। মুক্তিযুদ্ধের সময় নিক্সন সরকার অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খানকে সমর্থন প্রদান করে। পাকিস্তানের পাশে ছিল চিন ও শ্রীলঙ্কাও।

আরো পড়ুন – দক্ষিণ দিনাজপুরে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে চলা সাংবাদিক ও পুলিশ কর্মীদের সংবর্ধনা প্রদান

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ভারতের ভূমিকা গৌরবময়। এই তীব্র যুদ্ধের একদিকে ছিল পাকিস্তানি সেনা, আর অন্যদিকে ভারতীয় সেনা আর বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী। একাত্তরের ৩রা ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনা যখন ভারতের মোট এগারোটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়, সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা সেনা অভিযানের কথা ঘোষণা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। মাঝের এই বেশ কিছু মাস পেয়ে ভারতের সুবিধাই হয় যথাযথ ভাবে প্রস্তুত হবার। ভারত পাশে পায় তার একমাত্র বন্ধু রাশিয়াকে। রাশিয়াও সর্বশক্তিমান হয়ে ভারতকে যুদ্ধ জাহাজ ও সাবমেরিন দিয়ে সাহায্য করে। যুদ্ধবিদ্যার বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল দীপঙ্কর ব্যানার্জি বলছিলেন, এই দেরিটা ছিল ইচ্ছাকৃত এবং পাকিস্তান যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে যে হঠকারিতা করেছিল তাতে ভারতের সুবিধাই হয়েছিল। জুন থেকে অক্টোবর – বর্ষার এই লম্বা সময়টা ভারত চেয়েছিল যে কোনওভাবে যুদ্ধটা ঠেকিয়ে রাখতে। কারণ বর্ষায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি যুদ্ধের অনুকূল থাকেনা। তখনকার ভারতীয় সেনাপ্রধান স্যাম মানেকশ-ও পরে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী প্রথম থেকেই বলিষ্ঠ ভাবে যুদ্ধের পক্ষে ছিলেন।

আরো পড়ুন – তবলায় দারুণ হাত থাকলেও সঙ্গত কথাটায় ছিল তীব্র আপত্তি। ‘সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন’ এর মত ব্যাপারটা মনে হত গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের

আর সোভিয়েত ইউনিয়ন এর ইউ এস এস এন্টারপ্রাইস রওনা দেয় তার গন্তব্যের দিকে। সোভিয়েত ইউনিয়ন এর ধারণা ছিল তাদের যুদ্ধ জাহাজ ই যথেষ্ট ভারতকে দমিয়ে দেবার জন্য। আক্রমণের আগাম বার্তা পেয়ে ভারতীয় যুদ্ধ জাহাজ বিক্রান্ত ও যাত্রা শুরু করে দেয়। এর মধ্যেই খবর আসে জলপথে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চিন ই নয়, আরও দেশের যুদ্ধ জাহাজ এগিয়ে আসছে ভারতের দিকে। ভারত মহাসাগর দিয়ে আসা রাশিয়ার সাহায্য নিয়ে ভারত রুখে দাড়ায় শত্রুর বিরুদ্ধে। এরপর শত্রুপক্ষ ভয়ে রাস্তা বদলে ফিয়ে যায়। পাকিস্তানি সেনার শক্ত ঘাঁটিকে উপেক্ষা করে এগিয়ে গিয়েছিল সেনা বাহিনী ঢাকার দিকে। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণের ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী যুদ্ধ বিরতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান ৯৩,০০০ হাজার সৈন্যসহ আত্মসমর্পণের দলীল সই করে। যুদ্ধ স্থায়ী হয়েছিল দু সপ্তাহেরও কম। আমেরিকা ও পশ্চিমী দেশগুলো যেভাবে ভারতের ওপর ক্রমশ চাপ বাড়াচ্ছিল তাতে যুদ্ধ আর বেশিদিন চললে ভারতের বিপদ আরও বাড়ত। তাছাড়া বঙ্গোপসাগরে মার্কিন সেভেন্থ ফ্লিটের আনাগোনাও হয়তো ততদিনে শুরু হয়ে যেত।
সর্বপ্রথম ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশ ভুটান ও ভারত পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দান করে।

You may also like

1 comment

Leave a Reply!