Home বঙ্গ তবলায় দারুণ হাত থাকলেও সঙ্গত কথাটায় ছিল তীব্র আপত্তি। ‘সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন’ এর মত ব্যাপারটা মনে হত গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের

তবলায় দারুণ হাত থাকলেও সঙ্গত কথাটায় ছিল তীব্র আপত্তি। ‘সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন’ এর মত ব্যাপারটা মনে হত গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের

by banganews

নাকতলা অঞ্চলের এক বাড়ির গায়ে লিখে রাখা ছিল ‘আস্তাবল’। কোন প্রতিবেশীর কাজ ছিল সেটা। সত্তর দশকের গোড়ার দিকের বাঙালি যখন রবীন্দ্র নজরুলের গানের বাইরে বেরোতে পারেনি সেইসময় নাকতলার সেই বাড়িতে মধ্যরাতে শুরু হত শব্দমালা। মধ্যরাতই নাকি আদর্শ সময় সংগীতের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকার। সেই লেখাটা রেখে দেওয়া হয়েছিল। রেখে দিয়েছিলেন গৌতম চট্টোপাধ্যায়। মহীনের এক ঘোড়া, গতকালই জন্মদিন গেল তাঁর। বাঙালি কতটা মনে রেখেছে গৌতমকে , আসুন একটু জীবন ঘেঁটে দেখা যাক।

ট্রেনের হকার, ভিখারি, বৃহন্নলা সবার কাছে গান শুনেছেন গৌতম। চেষ্টা করেছেন শিখে নিতে। তুলে নিতে। যে কোন বাদ্যযন্ত্র সম্পর্কে আশ্চর্য পারদর্শী ছিলেন তিনি। তুলে নিতে পারতেন সহজেই মণিদা। জানিয়েছেন ভাই প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়। তবলায় দারুণ হাত থাকলেও সঙ্গত কথাটায় ছিল তীব্র আপত্তি। ‘সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন’ এর মত ব্যাপারটা মনে হত তাঁর। সবাই সমান গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন গৌতম ।

আরো পড়ুন – স্কুল খুললে কি স্বাস্থ্যবিধি মেনে পঠন পাঠন শুরু হবে তার মহড়া দেওয়া হল সল্টলেকের স্কুলে

প্রেসিডেন্সির ফিজিওলজি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। একদিকে নকশাল আন্দোলনের তাপ আরেকদিকে বিশ্বসংগীতের টান। দুদিকেই ঘোরাফেরা করছিলেন গৌতম। মগজে জন্ম হচ্ছিল বিপ্লবের। সব যুদ্ধ পেরিয়ে তিনি জোগাড় করতেন বিটলস বা সাইমন গারফ্যাঙ্কেলের গান। শোনাতেন সবাইকে। নিজের অবাঙালি বন্ধুদের নিয়ে শুরু হয়েছিল ব্যান্ড আর্জ। হোটেলে গাইতেন। বড় চুল, চোখে নেশা। ওই সময়ে রীতিমতো পাপ বলেই গণ্য হতো সেসব। তবে কিছুদিন বাদেই ছেড়ে দিলেন সব। বুঝলেন এলিট রেস্তোরাঁয় লোকেদের সামনে গেয়ে বিপ্লব হয়না। বাংলা গানে মানুষের কাছে পৌঁছলে বিপ্লব হয়। রাজনীতির আগুনে পুরেছেন তিনিও। আটক করা হয়েছে তাকেও। জেলের ভিতরে অসংখ্য গান লিখেছিলেন। তবে একটিও রাজনৈতিক নয়। রোম্যান্টিক। নীল সাগরের অতল গভীরে সেরকমই একটি গান। বাইরে বেরিয়ে ছাড়া পেয়ে বলেছিলেন আকাশ কত বড় ভুলেই গিয়েছিলাম। এই করেই এলো ৭৪। নকশাল রাজনীতি প্রায় অস্তমিত। এই সময়েই গৌতমের পা ভাঙে। বাড়ি থাকতে থাকতেই শুরু হয় গানবাজনা।রঞ্জন ঘোষাল লিখছেন রানওয়ে, সবাই মিলে লিখছেন কলকাতা।মণিদা , বুলা,ভানু, রঞ্জন, বাপি, আব্রাহাম, যীশু। নামবদল হতেই থাকতো দলের। সপ্তর্ষি থেকে শুরু করে শেষে মহীনের ঘোড়াগুলি। আর কোনোদিন নাম বদলায়নি। বেশি ডাক না আসলেও রবীন্দ্রসদনে মস্ত একটি শো করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন মহীনের ঘোড়াগুলি।সমালোচনা প্রচুর শুনেছিলেন। পাত্তা দেননি গৌতম। তবে আশিতে ভেঙে যায় ব্যান্ড। গৌতম চলে যান ছবির কাজে। বানান লেটার টু মম, নাগমতী। পান জাতীয় পুরস্কার।৯৫ সাল নাগাদ গৌতমের কাছে এল কিছুজন আবার ব্যান্ড এর স্বপ্ন। সম্পাদনা করলেন ৪টি album। মহীনের ব্র্যান্ড নিয়ে। শ্রোতারা এখনো মনে রেখেছে গান।

আরো পড়ুন – একটি বাচ্চা ছেলে, মাথায় কাটা দাগ আর কালো গোল চশমা- জাদুর জগতে স্বাগত।

শেষ তথ্যচিত্র ছিল ‘রং দিন’।কার্বিদের নিয়ে ছিল তথ্যচিত্র। বাংলা মানে চক্রব্যূহ। ফেরার পথে শেষ হয় তার অশ্ব জীবন।
স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। পৃথিবী বদলে দেওয়ার স্বপ্ন। তখন অনেকেই চিনতে পারেননি গৌতমকে। বুঝতে পারেননি গৌতমের গান। সময় পেরিয়ে গানগুলো রয়ে গেছে। গৌতম নেই। মহীনের ঘোড়াগুলি কি এখনও কার্তিকের প্রান্তরে ঘাস খাচ্ছে?

You may also like

4 comments