Home বঙ্গ রাজ্যকে না জানিয়েই আসছে শ্রমিক স্পেশাল, সরব মমতা!

রাজ্যকে না জানিয়েই আসছে শ্রমিক স্পেশাল, সরব মমতা!

by banganews

করোনা সংক্রমণ রুখতে গোটা দেশ জুড়ে চলছে লকডাউন। তা সত্ত্বেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। পাশাপাশি সুপার সাইক্লোন আমফানের তান্ডবে এককথায় পর্যদুস্ত বাংলা। এমনকি বিদ্যুৎ সংযোগ ও পানীয় জল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে গোটা রাজ্য জুড়ে। এরই মধ্যে রাজ্যকে না জানিয়ে পরিযায়ী শ্রমিক ভর্তি একটি ট্রেন ঢুকছে বাংলায়। কেন্দ্রের তরফে এই স্পেশ্যাল ট্রেনের কথা আগে থেকে জানানো হয়নি বলে বুধবার অভিযোগ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

” রাজ্যকে কনসাল্ট না করে রাজনৈতিক মর্জি মতো পরিযায়ীদের ফেরত পাঠাচ্ছেন। দুর্যোগ সামলাব, মানুষের দুর্ভোগ সামলাব, না আপনাদের চাপিয়ে দেওয়া রাজনীতি সামলাব?” বক্তব্য মমতার। প্রসঙ্গত, এই সঙ্কটের সময়ে রাজ্যকে না জানিয়ে স্পেশ্যাল ট্রেনে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরৎ পাঠানোর ব্যাপারে সম্প্রতি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এই একই অভিযোগ জানিয়েছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমফান-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে নবান্নে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে কেন্দ্রের উদ্দেশে তোপ দেগে মমতা আরও বলেন, “একদিকে তোমরা লকডাউন করবে, আর একদিকে রেল রেলের মতো চলবে?” এখানেই না থেমে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যের তরফে নির্দিষ্ট দিনের হিসেবে ২৫০টি ট্রেনের একটি তালিকা পেশ করা হয়েছিল, যাতে ধাপে ধাপে পরিযায়ীদের রাজ্যে ফেরত আনা যায়। হঠাৎ কাল সকালবেলা খবর পেলাম, মুম্বই থেকে ৩৬টা ট্রেন চালিয়ে দিচ্ছে, আমাদের জিজ্ঞেস না করেই। মহারাষ্ট্রর সঙ্গে কথা বলে জানলাম, তাদের নাকি জানানো হয়েছে রাত দুটোর সময়। অথচ আমরা যে শিডিউল বানিয়ে দিয়েছিলাম, সেই অনুযায়ী চললে কোনও গোলমাল হতো না। এদিকে ট্রেনের ভাড়াও আমরা দিচ্ছি।”.

আরো পড়ুন – বিগত ২৭ বছরে এরকম পঙ্গপালের উৎপাত দেখা যায়নি । কেন এমন হলো?

মমতা জানিয়েছন ইতিমধ্যেই ৫-৬ লক্ষ মানুষ এসে পৌঁছেছেন বাংলায়।এবং একসঙ্গে যাতে বেশি মানুষ এসে না পৌঁছন, সে জন্যই রাজ্য সরকারের তরফে ট্রেনের প্ল্যানিং করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একসঙ্গে এত লোক রাজ্যে হঠাৎ প্রবেশ করলে স্ক্রিনিং করা যাবেই বা কী করে? মমতার বক্তব্য, “সংক্রমণ বাড়লে কি কেন্দ্র দায়িত্ব নেবে? আমি প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এখানে হস্তক্ষেপ করতে অনুরোধ করব।”

প্রসঙ্গত , মহারাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা রীতিমতো উদ্বেগজনক। আর তারই মধ্যে ত্রিশটি ট্রেন পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে আসতে চলেছে এ রাজ্যে। মহারাষ্ট্র সরকার ও রেল বোর্ডের পরিকল্পনায় রাজ্যে আসছে এই ট্রেনগুলি। ইতিমধ্যেই ছটি ট্রেন পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে রাজ্যে এসেছে। যাদের মধ্যে গ্রামীণ হাওড়াতে আক্রান্ত ৭২ জন শ্রমিক । গ্রামীণ হাওড়া ছাড়াও দেগঙ্গা , বর্ধমান , বীরভূম এবং মূর্শিদাবাদ প্রভৃতি জায়গায় রয়েছেন করোনা আক্রান্ত পরিযায়ীরা। অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের করোনা আক্রান্তের হার অনেক কম এবং এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দ্যোগে বাংলায় বাড়ানো হয়েছে করোনা চিকিৎসাকেন্দ্রও। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি বার বার এই মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার বার্তা দিয়েছেন ।

এর পাশাপাশি তিনি যোগ করেন, “অমিত শাহকে বলেছিলাম এত টিম পাঠাচ্ছেন, পাঠান। আপনার যদি মনে হয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার করতে পারছে না, আপনি নিজে নিন না। আপনি নিজে করোনা সামলান। আমার কোনও আপত্তি নেই।”

আরো পড়ুন – আজ বুধবার থেকে আরও বেশি রুটে সরকারি বাস চলবে

মুখ্যমন্ত্রী জানান, মহারাষ্ট্র, চেন্নাই, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, এবং দিল্লি – এই হটস্পট এলাকা থেকে যে সব পরিযায়ীরা রাজ্যে ফেরত আসছেন, তাঁদের ১৪ দিনের কোয়ারান্টিনের ব্যবস্থা করবে রাজ্য, এবং এর তদারকির জন্য একটি টাস্ক ফোর্সও গঠিত হবে। বাকি এলাকা থেকে যাঁরা আসবেন, তাঁদের করোনার উপসর্গ না থাকলে হোম কোয়ারান্টিনেই থাবেন তাঁরা। তিনি এও জানান যে বাইরে থেকে যাঁরা আসছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই “পজিটিভ হয়েই আসছেন”, তবে “তাঁরা আমাদের রাজ্যের অধিবাসী, কাজেই আমি চাইব তাঁরা সুস্থ থাকুন”।

আর পড়ুন – করোনার জন্য বিয়ে বন্ধ থাকবে নাকি ? হাসপাতালেই বিবাহ সারলেন ডাক্তার এবং নার্স

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ফের অভিযোগ করে মমতা বলেন, “ একটা ট্রেনে গাদাগাদি করে লোক আসছে, কেন সোশ্যাল ডিস্ট্যানসিং বজায় রেখে পাঠানো হচ্ছে না?”

You may also like

2 comments

Leave a Reply!