Home লাইফস্টাইল কীভাবে বুঝবেন আপনার মনখারাপ নয়,ডিপ্রেশন নামের একটা অসুখ হয়েছে? কী বলছেন ডাক্তার মৈনাক পাল?

কীভাবে বুঝবেন আপনার মনখারাপ নয়,ডিপ্রেশন নামের একটা অসুখ হয়েছে? কী বলছেন ডাক্তার মৈনাক পাল?

by banganews

সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যা ভাবিয়ে তুলেছে আমাদের প্রত্যেকেই৷ ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম ৭ জনের মধ্যে ছিলেন সুশান্ত৷ যদি পড়াশুনা করতেন, ইঞ্জিনিয়ারিং শেষে করপোরেট দুনিয়ার বিলাসবহুল জীবনের হাতছানি ছিল, কিন্তু মনের ইচ্ছেয় অনিশ্চিত জীবন বেছে নিয়েছিলেন৷ অভিনেতা হতে চেয়েছিলেন মধ্যবিত্ত বাড়ির মেধাবী ছেলেটি৷ সেখানেও প্রথম থেকেই সাফল্য আকাশছোঁয়া৷ তাহলে কীসের অভাব ছিল? নাম যশ খ্যাতি অর্থ প্রতিপত্তি সব থাকতেও কীসের এত শূন্যতা? প্রশ্ন উঠেছে সকলের মনে৷

আর এই প্রশ্নই বুঝিয়ে দিয়েছে ডিপ্রেশনের বাংলা মনখারাপ নয়৷ ডিপ্রেশন কেবল মনখারাপ নয়৷ ডিপ্রেশন একটি অসুখ, যার চিকিৎসা প্রয়োজন৷ কিন্তু কীভাবে বুঝবেন আপনার মনখারাপ নয়,ডিপ্রেশন নামের একটা অসুখ হয়েছে,

ডাক্তার মৈনাক পাল লিখেছেন ,
ভারতবর্ষে প্রতিবছর প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার মানুষ আত্মঘাতী হন। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, ব্যাপারটা হেলাফেলার নয়। এবং এই বিশাল সংখ্যার মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী ডিপ্রেশন। এবং এ কথাও জেনে রাখুন, আত্মহননের জন্য কেবল ডিপ্রেশন নয়, আরো কয়েকটি মনোরোগ দায়ী।

আরও পড়ুন তথ্যচিত্র বানাতে চেয়েছিলেন সুশান্ত, ‘স্বামী বিবেকানন্দ’কে নিয়ে

ডিপ্রেশন কী তা জানতে গেলে আমাদের বিজ্ঞানমনস্ক হতে হবে৷ না, ডিপ্রেসিভ ইলনেস মানে মন খারাপ নয়। DSM-5 বলে একটি নির্ণায়ক তালিকা আছে। তা দেখে আমাদের নির্ণয় করতে হয় কে ডিপ্রেশনের রুগী।

কী বলছে এই DSM-5? আসুন, দেখে নিই।

** নিম্নলিখিত নয়টি লক্ষণের মধ্যে যদি অন্তত পাঁচটি বা তার বেশি লক্ষণ কোনও মানুষের মধ্যে টানা দুই সপ্তাহ বা তার বেশি থাকে, তবে তাকে ডিপ্রেসিভ ইলনেসের রোগী বলা যায়।
১)প্রায় সারাদিন ধরে দুঃখ ও হতাশার ভাব, যা রোগী নিজে বুঝতে পারে বা তার ঘনিষ্ঠজনেরা লক্ষ করে৷
২)প্রায় সমস্ত বিষয়ে ও কাজকর্মে উৎসাহ ও আনন্দের অভাব বোধ করা, যা রোগী বুঝতে পারে বা ঘনিষ্ঠজনেরা লক্ষ করে৷
৩)কোনও প্রত্যক্ষ কারণ বা অন্যান্য অসুখ ব্যতিরেকে ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া। একমাসে ওজনের অন্তত ৫% পরিবর্তন।
৪)ঘুম না আসা বা সারাদিন ধরে ঝিমুনিভাব।
৫)সামান্য কারণে অস্বাভাবিক উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ বা গুরুতর কারণে উত্তেজনার অভাববোধ, এটি মূলতঃ রোগীর ঘনিষ্ঠজনের দ্বারা পরিলক্ষিত হয়।
৬)অস্বাভাবিক ক্লান্তিবোধ।
৭)নিজেকে প্রতিনিয়ত অপদার্থ ভাবা এবং অস্বাভাবিক বেশি ও যুক্তিহীন অপরাধবোধ।
৮)কোনও বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে বা মনঃসংযোগ করতে অপারগতা এবং সিদ্ধান্তগ্রহণে দুর্বলতা।
৯)ঘন ঘন মৃত্যুচেতনা, আত্মহননের ইচ্ছা, আত্মহননের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা, বিভিন্ন পরিকল্পনার মধ্যে তুলনা করা, আত্মহননের প্রচেষ্টা।

** সামাজিক, পেশাগত এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সুষ্ঠু যাপনের পক্ষে যদি উপরোক্ত লক্ষণগুলি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তবে রোগীকে ডিপ্রেসিভ ইলনেসের আওতায় ফেলা যাবে৷

** মনে রাখতে হবে কোনও নেশার দ্রব্য, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অন্যান্য অসুখের জন্য উপরোক্ত রোগলক্ষণ উপস্থিত হলে তাকে ডিপ্রেশন বলা যাবে না।

** সিজোফ্রেনিয়া স্পেকট্রাম, ম্যানিক বা হাইপোম্যানিক ডিজ অর্ডার জাতীয় মনোরোগ রোগীর মধ্যে ইতোমধ্যে উপস্থিত থাকলে এই নির্ণায়ক গ্রাহ্য হবে না।

এরকম কিছু আপনি আপনার মধ্যে খুঁজে পেলে বা আপনার সঙ্গে প্রায় সারাদিন কাটায় এমন কোনও ঘনিষ্ঠজন বুঝতে পারলে আপনার যত শীঘ্র সম্ভব চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

আরও পড়ুন সম্পর্কের টানাপোড়েনেই কী এই গভীর অবসাদ? 

সত্যি কথা বলতে চিকিৎসকের কাছেও ডিপ্রেশন নির্ণয় বেশ কঠিন ব্যাপার; এবং আপনার ও আপনার ঘনিষ্ঠজনের সঙ্গে বেশ খানিকক্ষণ বা বারবার কথা বলে এবং বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে অন্যান্য রোগগুলিকে বর্জনপদ্ধতিতে বাদ দিয়ে তবেই ডিপ্রেশনের ডায়াগনসিস সম্ভব। এবং ডায়াগনসিসে আসলে তার চিকিৎসা শুরু হবে। সেই চিকিৎসা তার আকাঙ্ক্ষিত ফল প্রদান করতে খানিকটা সময়ও নেবে; অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক ফলটুকু পেতেও তিনমাস লেগে যায়৷

আরও পড়ুন ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনের চিকিৎসা চলছিল সুশান্তের – মাঝপথেই ইতি ( ছবি)

আপনি কী করবেন? আপনার ঘনিষ্ঠ মানুষটির ডিপ্রেশনের চিকিৎসা চলাকালীন ফল না পাওয়া অবধি তার পাশে পাশে থাকবেন, তাকে উৎসাহ দেবেন, তাকে ওষুধ খেতে মনে করাবেন, তার উপর নজর রাখবেন। আপনার প্রিয় মানুষটির লিম্ফোসারকোমা অফ ইনটেসটাইন হলে যতটা আতুপুতু করে রাখতেন, ঠিক ততটাই আতুপুতু করে রাখবেন। এটাই আপনার কর্তব্য। স্ট্যাটাস দিয়ে বা একদিন ফোন করে দায় সারা নয়। মনে রাখবেন, একটা অসুখ সারাতে রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী আর রোগীর ঘনিষ্ঠজনের সুষ্ঠু মিথোজীবিতা প্রয়োজন, অন্যথায় সকলই গরল ভেল৷

You may also like

1 comment

Leave a Reply!