Home পৌরাণিক কাহিনী কালী ও জগদ্ধাত্রী পুজোর মতই তান্ত্রিক মতে পুজো হয়ে থাকে অন্নপূর্ণার

কালী ও জগদ্ধাত্রী পুজোর মতই তান্ত্রিক মতে পুজো হয়ে থাকে অন্নপূর্ণার

by banganews

হিন্দু দেবী অন্নপূর্ণা শিবজায়া পার্বতীরই এক রূপ। অন্নদা নামেও তিনি পরিচিতা। অন্ন কথার অর্থ ধান, আর পূর্ণা-র অর্থ হল পূর্ণ। অর্থাত্‍ যিনি অন্নদাত্রী। শক্তির অপর রূপ হিসেবে হিন্দুদের মধ্যে বিরাজমান এই দেবী। দ্বিভুজা অন্নপূর্ণার এক হাতে অন্নপাত্র ও অন্য হাতে হাতা থাকে। দেবীর একপাশে থাকেন ভূমি ও অন্যপাশে থাকেন শ্রী। চৈত্র মাসের শুক্লাপঞ্চমী তিথিতে অন্নপুর্ণার পুজা করা হয়। কালী ও জগদ্ধাত্রী পুজোর মতই তান্ত্রিক মতে এই পুজো হয়ে থাকে।

শিব হলেন সৃষ্টি-স্থিতি-লয় নিয়ন্ত্রণকারী পরমসত্ত্বা। তিনিই লীলাচ্ছলে ব্রহ্মারূপে সৃষ্টি করেন, বিষ্ণুরূপ ধারণ করে পালন করেন আবার রুদ্ররূপ ধারন করে সংহার করেন। ত্রিনয়নধারী নীলকণ্ঠ ও আদি পরাশক্তি সর্বোচ্চ দেবী পার্বতীর মিলন পৃথিবীর জন্য ছিল অতি মঙ্গলময়। এই মিলন বজায় রাখে চিন্তা ও কার্য এই দুই এর মধ্যে সমতা। পার্বতী হলেন শক্তি, কর্মক্ষমতার আধার। তাঁকে ছাড়া মহাদেব জগতসংসারের এক বিচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষক ভিন্ন আর কিছুই নন। কারণ পার্বতীহীন পৃথিবী অচল। তাঁদের মঙ্গলময় মিলন মুছে দেয় সব জড়তা। পৃথিবীতে ঘটে প্রাণের সঞ্চার। তাই পার্বতী পৃথিবীর মাতা রূপে পূজিত হন। একদা এই মহান দুই শক্তির মাঝে এক অহং যুদ্ধ বাধলো। পার্বতী নিত্য দিনের আরাম ও স্বস্তির উপাদানগুলি পৃথিবীতে যোগাতেন। খেয়াল রাখতেন যাতে জীবকুল একে অপরের সাথে মানসিক ও শারীরিক ভাবে সংযুক্ত থাকে। মহাদেব অবজ্ঞাছলে পার্বতীর ভুমিকাকে খাটো করেন। তিনি পার্বতীকে বলেন বহ্মা এই পার্থিব জগত সংসার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সখে মাত্র। তাই এই পার্থিব জগত মায়া বইকি আর কিছুই নয়। নারীশক্তির আধার সেদিন হেসেছিলেন মাত্র। তারপর সম্মুখ সমরে প্রমাণ করে দিয়েছিলেন এই বিশ্বলোক এ তাঁর ভূমিকা ঠিক কতোখানি।

আরো পড়ুন – সমুদ্রের ভেতরে ঠিক 1.5 কিলোমিটার গেলে দেখা পাওয়া যায় এই মন্দিরের। নিষ্কলঙ্ক মহাদেব মন্দির।

পার্বতী তাঁর ভূমিকা প্রমাণ করতে নিজ সমস্ত ক্ষমতাকে অপসারণ করে এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। গোটা জগতসংসারকে গ্রাস করল কালিমা, ভয়, দুর্ভিক্ষ নিস্তব্ধতা ও ঊষরতা। নদী গেল শুকিয়ে। বন্ধ্যা পৃথিবী ফসল ফলাতে হল অক্ষম। ক্ষুধার রাজ্যে ধরা হারাল প্রাণশক্তি। দেবাদিদেব মহাদেব এই সংকটময় অবস্থায় অনুভব করলেন এক ভয়ঙ্কর শূন্যতা যা তাঁর পত্নী ছাড়া কারো পূরণ করা সম্ভব নয়। হতাশার সাগরে তিনি ডুবে গেলেন। বুঝলেন তিনি জন্মরহিত, শাশ্বত, সর্বকারণের কারণ। সমস্ত জ্যোতির জ্যোতি; তিনি তুরীয়, অন্ধকারের অতীত, আদি ও অন্তবিহীন বটে। কিন্তু পার্বতী ছাড়া তিনি কিছুই নন। পার্থিব জগত শুধু মাত্র কল্পনা নয়।

মাতা পার্বতীর ছিল দয়ার শরীর। বেশিদিন তিনি তাঁর ভক্তদের দুর্দশা ও ক্রন্দন সহ্য করতে পারলেন না। তিনি আবির্ভূতা হলেন অন্নপূর্ণা রূপে। তাঁর আবির্ভাবে পৃথিবী সুজলা সুফলা হয়ে উঠলো। নতুন রূপে প্রাণশক্তির সঞ্চার হল। পৃথিবীর ক্ষুধার্ত মানুষরাই শুধু নন পরম ব্রহ্ম শিব ও তাঁর জায়ার সম্মুখে খালি পাত্র নিয়ে যান ও ক্ষমাভিক্ষা করেন। অন্নপূর্ণা ভরে দেন স্বামীর খালি পাত্র। ভিক্ষারত শিবকে অন্নপ্রদান করে দেবী অন্নদা নাম প্রাপ্ত হন।

আরো পড়ুন – মন্দিরটি এমনভাবে বানানো হয়েছিল যাতে সূর্যের প্রথম আলো মন্দিরের গর্ভগৃহে রাখা বিশাল সূর্য দেবতার মূর্তিতে পড়ে।

অনেকের মতে মা অন্নপূর্ণা সর্বপ্রথম পা রেখেছিলেন কাশীতে। গঙ্গাতীরে তিনি স্থাপনা করেন একটি পাকশালা। কাশীতে দেবী অন্নপূর্ণার বিখ্যাত মন্দির রয়েছে। সেখানে প্রতি বছর এই দিনটিতে ধুমধাম করে পুজো হয়ে থাকে। এই মন্দিরে অন্নকূট উত্‍সব বিখ্যাত।

You may also like

2 comments

Leave a Reply!