Home পৌরাণিক কাহিনী আগুনে ঝলসে যাওয়া মা দুর্গা ৪৩১ বছর ধরে পূজিত

আগুনে ঝলসে যাওয়া মা দুর্গা ৪৩১ বছর ধরে পূজিত

by banganews

শুভ কাজে আগুন লাগলে বা পুড়ে গেলে বলা হয় অশুভ সংকেত। কিন্তু দেবী মূর্তিতে যদি আগুন লাগে? তাহলেও সে কি ব্রাত্য! প্রায় ৪০০ বছর আগে এমনই এক প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিল
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং এর ভট্টাচার্য্য পরিবার৷
তখন তাঁরা থাকতেন ঢাকায়৷ এই পুজো শুরু হয়েছিল ঢাকার বিক্রমপুরের বাইনখাঁড়া গ্রামে। বাইনখাঁড়া গ্রামে পুজো শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই ঘটে যায় অঘটন।

দুর্গা মন্দিরের পাশেই ছিল মা মনসার মন্দির। পুরোহিত মনসা পুজো শেষ করে এলেন দুর্গামন্দিরে৷ এমন সময় মন্দিরে এসে বসল একটি কাক৷ এরপর হঠাৎ মনসা মন্দিরের মা মনসার কাছে দেওয়া ঘিয়ের প্রদীপের সলতে নিয়ে উড়ে যায় কাক। আর সেই জ্বলন্ত সলতে গিয়ে পড়ে দুর্গা মন্দিরের শনের চালের ওপর৷ দাউ দাউ করে আগুন লাগে৷ পুড়ে যায় দুর্গা মন্দির ও প্রতিমা।

মায়ের পুজোর এমন অঘটন, এত বিঘ্ন দেখে বাড়ির প্রবীণরা পুজো বন্ধ রাখেন। শোনা যায়,তারপরেই পরিবারের তৎকালীন গৃহকর্তা রামকান্ত ভট্টাচার্য্য স্বপ্নাদেশ পান, ওই পোড়া রূপেই যেন মহামায়া দেবী দুর্গার পুজো করা হয়৷ দেবীর আদেশ পাওয়ার পর দেবীর পোড়া মুখ ও ঝলসানো শরীরের মূর্তিতেই নতুন করে পুজোর আয়োজন করা হয়৷ তারপর থেকে চলে আসছে মাতৃ আরাধনা। ভট্টাচার্য্য বাড়িতে দেবী দুর্গার বাম দিকে থাকে গণেশ। ডানদিকে থাকেন কার্তিক। কার্তিকের ঠিক পাশেই থাকে নবপত্রিকা। আর্থিক কারণে কিছুটা আড়ম্বর কিছুটা কমেছে। কিন্তু নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার টানে শুধু এলাকার বাসিন্দারা নন, দূরের মানুষও আসেন এই পুজো দেখতে৷ঢাকায় যে কাঠামোয় পুজো হত, এখনও সেভাবেই একচালার পোড়া মূর্তিতেই দেবী দুর্গা পূজিত হন শরতের আগমনী আলোয়

You may also like

Leave a Reply!