Home বঙ্গ এবার কি ধীরে ধীরে আনলকের পথে রাজ্য?

এবার কি ধীরে ধীরে আনলকের পথে রাজ্য?

by banganews

ধীরে ধীরে আনলকের দিকে এগোচ্ছে রাজ্য। অফিস কাছারি খুলতে শুরু করবে আবার বলেই সকলের ধারণা। যে ডেইলি প্যাসেঞ্জাররা প্রতিদিন সকালে উঠেই দৌড়তেন অফিস তাদেরও মনে হচ্ছে সময় হয়ে এলো কারণ রেলই ছিল তাদের সংসার প্রায়। এসময় তাই রেলের কিছু মজার সত্যি ঘটনা বলা যাক।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একবার সস্ত্রীক ট্রেনে ভ্রমণ করছিলেন। এক কৃষ্ণকায় যুবক বারবার তার স্ত্রীর দিকে চেয়ে দেখছিল ট্রেন থামলেই কামরার জানালার দিকে এসে। বঙ্কিম এর মনে হল ছেলেটিকে বকে দেওয়া উচিত। পরেরবার ছেলেটি যখন এলো বউকে ছেলেটিকে দেখিয়ে বললেন দেখছো, ঠিক যেন চিড়েতনের টেক্কা।
ছেলেটি সেটা শুনতে পেয়ে একটুও না চমকে বলেছিল আপনার কাছে তো রঙের বিবি আছে, তুরুপ করে নিন না।
এই জবাবে খুশি হয়ে বঙ্কিম বেশ কিছুক্ষণ ডেকে কথা বলেছিলেন যুবকের সঙ্গে।
আরেকবারও একই ঘটনা ঘটেছিল বঙ্কিমের সঙ্গে। সেবার তিনি যুবককে ডেকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যুবক কি করেন আর কত মাইনে পান। যুবক বলেছিল ত্রিশ টাকা মাইনের চাকরি করেন তিনি।বঙ্কিমের জবাব ছিল তিনি ডেপুটি, আটশো টাকা মত পান। লেখালিখি করে আরো কিছু। প্রায় হাজার হয়। তাতেই তিনি বউয়ের মন পান না। কিন্তু তিনি বৌয়ের ঘোমটা খুলে দিচ্ছেন ত্রিশ টাকার কেরানি মন পাওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
এবার আসা যাক স্বামী বিবেকানন্দর কথায়। তিনি যে নিজের গুরু শ্রীরামকৃষ্ণের মতোই রঙ্গপ্রিয় ছিলেন সে কথা অনেকেই জানেন। পরিব্রাজক জীবনে সেবার স্বামীজিকে কেউ প্রথম শ্রেণীর টিকিট কেটে দিয়েছেন। স্বামীজি গা ভর্তি ধুলো আর ঘাম নিয়ে উঠেছেন কামরায়। দুজন উচ্চপদস্থ ইংরেজ সৈনিক যাচ্ছিল সেই কামরায়। তাকে দেখেই একজন বললো Here comes a dog, অন্যজন বললো, No,here comes an ass. স্বামীজি দুজনের মাঝখানে প্রথমে গুছিয়ে বসলেন তারপর বললেন ‘And I’m sitting between the two’ ।
রবীন্দ্রনাথেরও এরকম মজার গল্প আছে ট্রেন নিয়ে। একবার রানী চন্দ ট্রেনে কবির সঙ্গে যাওয়ার সময় দেখলেন রবীন্দ্রনাথ কিসব বিড়বিড় করে বলছেন। কাছে গিয়ে শুনলেন, রবীন্দ্রনাথ বলছেন, সেনগুপ্ত,দাশগুপ্ত,সেনগুপ্ত দাশগুপ্ত। কি সব বলছেন কবি? জিজ্ঞাসা করতে গুরুদেব জবাব দিলেন শুনছিস না?ট্রেনের চাকায় শব্দ হচ্ছে। সেনগুপ্ত ….দাশগুপ্ত…সেনগুপ্ত….দাশগুপ্ত।
একবার বোলপুর থেকে কবি ট্রেনে উঠেছেন, বর্ধমান থেকে কবির কামরায় উঠলেন সিগারেট মুখে এক কালা সাহেব। এক গাদা জিনিস নিয়ে উঠলেন। কবি এত জিনিসপত্র পছন্দ করতেন না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন আপনি কে মশাই?
ভদ্রলোক উদ্ধতভাবে বললেন, কেন মশাই ?মানুষ।
কবি স্বস্তির নিঃস্বাস ফেলে বললেন যাক, সন্দেহভঞ্জন হলো।
এরকমই নানা মজার ঘটনা আছে রেল এর যাত্রা নিয়ে। করোনার প্রকোপের পরে সেই যাত্রা কতদূর এরকম মজাদার হতে পারে সেটাই এখন দেখার ব্যাপার।

You may also like

Leave a Reply!