Home দেশ প্রণব উচ্চারিত হতে থাকে লালমাটির মিরাটিতে

প্রণব উচ্চারিত হতে থাকে লালমাটির মিরাটিতে

by banganews

কীর্ণাহার, ৩১ অগাস্ট, ২০২০ঃ  লালমাটি বীরভূমের বোলপুরকে চেনেন সব্বাই। দরকারে অদরকারে বোলপুর ছুঁয়ে আসা সিংহভাগ বাঙালির চিরকালের অভ্যেস।কিন্তু সেই প্রসিদ্ধ পর্যটন-পীঠ থেকে আরও ৪০ কিলোমিটার দূর মানে এখনও যেন সোঁদা সোঁদা গন্ধ। যদিও ছবির মতো গ্রামের ধারণাটা এ যুগে একটু বিরলই বটে, তবে এই মাটির ঝোপঝাড়ে বুনোফুলের সহজ সম্ভার আজও বিরল নয়।
মিরাটি।
বোলপুর থেকে ৪০ কিলোমিটার। আশপাশের উন্নত জায়গা বলতে কীর্ণাহার। সেখান থেকেও পাঁচ কিলোমিটার দূরে।
কে-ই বা এত খেয়ালে রাখত, যদি না প্রতি বছর সেখান থেকে নিয়ম করে ভেসে আসত চণ্ডীপাঠ! মহাপুজোর চারটে দিনই।
‘দেবী প্রপন্নার্তি হরে প্রসিদ…’

নিয়মনিষ্ঠার এতটুকু ব্যাত্যয় হয়নি। দেশের সর্বপ্রধান নাগরিক হলেনই বা। চিরকালের অভ্যাসমতো সেই একইভাবে শক্তির আরাধনা করতে বহু যোজন পথ উজিয়ে এসেছেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। মিরাটির ভূমিপুত্র।
এটিই তাঁর তপস্যা যে!
বীরভূমের বোলপুর সাবডিভিশনের অধীনস্থ লাভপুর ব্লকে এই ছোট্ট মিরাটি গ্রাম। কারও কারও মুখে আবার মিরিটি। মেরেকেটে হাজার তিনেক মানুষের বসবাস। গণসুমারি হিসেব বলছে, মিরাটির ৪৭ শতাংশ মহিলা। ৫৩ শতাংশ পুরুষ।
এখনও এ গ্রামের মানুষজন তাঁদের মাটির সেরা পুরুষ হিসেবে প্রণব মুখোপাধ্যায়কেই আদর করে থাকেন।
ভূমিপুত্র তো। শ্রদ্ধার চেয়ে আদর বেশি। এ গ্রাম থেকে আরও ৫ কিলোমিটার উজিয়ে কীর্ণাহারের শিবচন্দ্র বিদ্যালয়ে পড়তে যেতেন প্রণব। গ্রামের কাছেপিঠের একটু ভালো স্কুল বলতে একমাত্র ওটিই। আরও কত পড়ুয়া সারি বেঁধে চলতেন লালমাটির পথে।

আরও পড়ুন সাংসদ অফিসকে আইসোলেশন সেন্টার বানালেন দেব

মিরাটি থেকে কীর্ণাহার, রোজের পথ। রোজের চেনা। প্রণবের যেন বর্ধিত পাড়া, বর্ধিত প্রতিবেশী।
আজও তাই তাঁকে মিরাটি বলে ‘আমার’, কীর্ণাহার ডাকে ‘আমার’।
‘আমার’ বলে ডাকে পরোটা-ও। চিনলেন না বুঝি? মিরাটির গা লাগোয়া গাঁ। বড়দিদি অন্নপূর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্বশুরঘর। সময় পেলেই ছোট ভাই একছুট্টে সে দরজাতেও। এমনকী দিল্লির জটিল কাজকর্মের মধ্যে ফুরসত মিললেই মিরাটি হয়ে পরোটা।
অন্নপূর্ণা যতদিন আলো করে ছিলেন, ততদিন প্রণবকণ্ঠ গমগম করত সেখানেও।আর সাদেশ্বরী কোনাই! তাঁরও যে ‘আমার’ বলার সেই একই অধিকার।
মিরাটির প্রণবভিটেতে রয়েছেন সাদেশ্বরী। পাঁচ দশকেরও বেশি। রাষ্ট্রপতি বোঝেন না। রাজনীতি বোঝেন না। চাণক্য বোঝেন না। শুধু বোঝেন, দরজায় পা দিয়েই হাসিমুখ মানুষটি আগে তাঁর খোঁজ নেন।
এমন মানুষকে ‘আমার’ বলে ডাকবেন না সাদেশ্বরী!
শিকড়—শিকড়। বড় গভীর মায়া। গভীর টান। বাবা কামদাকিঙ্কর, মা রাজলক্ষ্মী মিশে আছেন যে এই মাটিতেই।
এই মিরাটির বুকে তাই জন্মঋণ শোধ করতে বারবার ফিরে আসতেই থাকেন এক অনন্য জাতক।
মহাপুজোর আকাশবাতাসে প্রণব উচ্চারিত হতে থাকে—’দেবী প্রপন্নার্তি হরে প্রসীদ’…

You may also like

1 comment

Leave a Reply!