Home দেশ প্রয়াত প্রণব মুখোপাধ্যায়

প্রয়াত প্রণব মুখোপাধ্যায়

by banganews

দিল্লি, ৩১ অগাস্ট, ২০২০ঃ  চলে গেলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ প্রণব মুখোপাধ্যায়। ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছিলেন তিনি। চিকিৎসাধীন ছিলেন দিল্লির আর্মি রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেল হাসপাতালে। আজ সকালে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিকেলে প্রণবপুত্র অভিজিত মুখোপাধ্যায়ও ট্যুইট করে তাঁর বাবার মৃত্যুর কথা জানান।

 

প্রণববাবুর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শোকপ্রকাশ করে ও প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ট্যুইট করেন এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
গত ৯ অগাস্ট বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ধরা পড়ে কোভিড পজিটিভও। ১০ অগাস্ট অস্ত্রোপচার হয় প্রণববাবুর। এরপর থেকে তাঁর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ধরা পড়ে ফুসফুসের সংক্রমণ। কোমায় চলে যান তিনি। কয়েকদিন সঙ্কটজনক হলেও স্থিতিশীল অবস্থায় ছিলেন। পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন চিকিৎসকরা। আজ শেষ পর্যন্ত হার মানলেন জীবনযুদ্ধে।

গত বছর এই অগাস্ট মাসেই ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত হন প্রণব মুখোপাধ্যায়। ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ছিলেন ভারতের ১৩তম রাষ্ট্রপতি পদে। তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল সুদীর্ঘ। ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের আমলে অর্থমন্ত্রীত্ব সামলেছেন বর্ষীয়ান এই কংগ্রেস নেতা। তবে এটুকু বললে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রায় কিছুই বলা হয় না।

আরও পড়ুন খবরের আড়ালে রয়ে গেছেন যে প্রণব

সালটা ছিল ১৯৬৯। রাজনীতির আঙিনায় পা রাখেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। রাজনৈতিক জীবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অত্যন্ত প্রিয় পাত্র ছিলেন। তাঁরই হাত ধরে রাজ্যসভার টিকিট পান বছর ৩৪-এর বীরভূমের কীর্ণাহার নিবাসী এই ব্যক্তিত্বশালী নেতা। ওই পদে কাটান দীর্ঘ ৩৩ বছর। ১৯৭৩ সালে প্রথমবার জায়গা করে নেন ইন্দিরার মন্ত্রিসভায়। জরুরি অবস্থা চলাকালীন দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নানান ওঠাপড়ার মধ্য দিয়ে গিয়ে ১৯৮২-তে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর পদ পান। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসিমারাওয়ের মন্ত্রিসভার বিদেশমন্ত্রী ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। ২০০৪ সালে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের মানুষ হাত চিহ্নে প্রণববাবুর ওপর বিপুল আস্থা প্রদর্শন করেন। জঙ্গিপুরের সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। মনমোহন সিং সরকারের আমলে প্রতিরক্ষা, অর্থ ও বিদেশ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলেছেন প্রণববাবু। কংগ্রেসের অভ্যন্তরে তাঁর বিকল্প ছিল না। দলের ব্যাটন যখন সনিয়া গান্ধীর হাতে যায়, তখন আদতে তিনিই ছিলেন সনিয়ার মেন্টর।

৮৫ বছর বয়সে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করলেন ভারতের প্রথম এবং এখনও পর্যন্ত একমাত্র বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। শেষ হল এক অধ্যায়ের।
প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ট্যুইট, “দেশের উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। রাজনীতি ও সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছেই তিনি ছিলেন সমান গ্রহণযোগ্য।”

রাহুল গান্ধী ট্যুইট করেন, “গোটা দেশ গভীর দু:খের সঙ্গে আমাদের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুসংবাদ শুনল। আমি তাঁকে আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা ও তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ট্যুইট, “এক অধ্যায়ের সমাপ্তি। কয়েক দশক ধরে তিনি আমার পিতার ভূমিকা পালন করেছিলেন। আমার প্রথম সাংসদ হওয়া থেকে মুখ্যমন্ত্রীত্ব পর্যন্ত তাঁকে পথপ্রদর্শক হিসেবে পেয়েছি।” আর একটি ট্যুইটে তিনি বলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা না করলে তাঁর দিল্লি সফর সম্পূর্ণ হত না।”

You may also like

Leave a Reply!