Home বিনোদন করোনা পরবর্তী সময়ে টেলিপাড়ার ছবিটা ঠিক কেমন হবে? জানালেন সত্রাজিৎ সেন

করোনা পরবর্তী সময়ে টেলিপাড়ার ছবিটা ঠিক কেমন হবে? জানালেন সত্রাজিৎ সেন

by banganews

আমরা যারা সিনেমা নিয়ে কাজ কারবার করে থাকি তাদের জন্যে অবশ্যই একটা  বিশাল ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে কোভিড ১৯। অন্য সমস্ত  ক্ষেত্রেও তাই। আসলে অনেক বিষয়  আমরা যাকে বলে টেকেন ফর গ্রান্টেড করে জীবন যাপন করছিলাম। বিশাল একটা  শিক্ষা দেওয়ার জন্যেই হয়ত এই রোগের আগমন।

যাই  হোক যখন এই নিয়েই চলতে হবে তখন আমার ব্যক্তিগত মতামত হল যে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পালটে ফেলতে হবে। এই ধরুন সিনেমা বানানোর ক্ষেত্রে প্রথম যেটা আসে সেটা হল চিত্রনাট্য। সেটাতেই তো একটা আমূল পরিবর্তন আনতে হবে প্রথমেই। তার মানে কি এই যে গোটা ছবিতেই তার প্রচুর প্রভাব পড়বে? নিশ্চয়ই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো পড়বেই।  এই যেমন ধরুন অন্তরঙ্গ মুহূর্ত গুলো শুট করতে আর না দেওয়াটা। একটা খুব ভুল ধারনা পোষণ করে এগোনো হচ্ছে যে শুধুমাত্র যেখানে প্রেমিক প্রেমিকার দৃশ্য থাকবে সেই সমস্ত জায়গাতেই এই নতুন নিয়মের একটা  প্রভাব দেখা যাবে, কিন্তু আদতে তা নয়। এর কারণ হল সমস্ত সম্পর্কের মধ্যেই একটা ঘনিষ্টতা থাকে।

মা-ছেলে,  দাদু-নাতি,  ভাই-বোন, শাশুড়ি-বৌমা এদের মধ্যে কোনরকম আলিঙ্গনের প্রচলন নেই এটা কখনওই বলা যায় না। তাই সেই সমস্ত দৃশ্যগুলো কিন্তু নতুন ভাবে তুলে ধরতে হবে। এ তে একটা  জিনিস হবে, যারা খুব দক্ষ লেখক বা লেখিকা একমাত্র তারাই পারবেন এই বিষয় গুলো মাথায় রেখে তাদের লেখার মধ্যে  সারমর্মটা বজায় রেখে চিত্রনাট্য লিখতে। এর ফলে যেটা হবে সেটা হল, অত্যন্ত কুশল লেখক বা লেখিকার মান এবং দাম দুটোই বাড়বে ।

        আমরা অন্যান্য যে সব প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হই  সেগুলো অবশ্য অভ্যাস । যেমন ধরুন সেটে বেশি লোক ঢুকতে না দেওয়া। এমনিতেই আমার এবং অনেকের একথা বহুবার মনে হয়েছে যে অনাবশ্যক  বেশি মাত্রায় মানুষ আমাদের শুটিং ফ্লোরে থাকেন । পৃথিবীতে অন্য যে কোন দেশে কিন্তু এই আতিশয্য  নেই। আমি ব্যক্তিগত ভাবে বলতে পারি বিদেশে শুট করার অভিজ্ঞতা থেকে যে অনেক কম সংখ্যক লোক নিয়ে কিন্তু সেখানে কাজ করা হয়।

তাতে কিন্তু কাজের মানে কোনোরকম প্রভাব পড়ে না, বরং কাজের গতি বেড়ে যায় এবং নিজ দায়িত্ব পালন করাটা আরও বেশি সচেতনতার সঙ্গে করা হয় বলেই দেখে এসেছি। তাই এটা মেনে নিয়ে একটু একটু করে নিজের কাজের ভার বাড়িয়ে নিলেই সমস্যা হবে না। রইল বাকি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শুটিং করা এইটা অবশ্য সিনেমার ক্ষেত্রে মুশকিল হবে কিন্তু টিভি সিরিয়াল এর ক্ষেত্রে অ্যাডজাস্ট করাটা সম্ভব কারণ বেশিরভাগ সব ইন্ডোর সিন থাকে এবং সেখানে গল্প কে হাল্কা অদল বদল করা চলে যেহেতু রোজকার সিন দিনে দিনে লেখাও হয় প্রয়োজনে । সিনেমার যেই সব চিত্রনাট্য লেখা হয়ে রয়েছে সেগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে নতুন নিয়ম মাফিক, এটা সত্যি। নতুন লেখা এগুলো মাথায় রেখেই লেখা হবে। তবে বিনোদন যাতে কমে না যায় সেটা দেখা জরুরি তাই অভিনব চিন্তা আনতে হবে। ভাবনা চিন্তা বাড়াতে হবে যেটা আমার ব্যাক্তিগত মতে ভালোই হল বলে মনে  হয় কারণ লেখকদের ভাবতে হবে সেই সূত্রে কাজ টা অন্যরকম একটা মাত্রা পাবে।

        যেমন আমি এই লকডাউন এর মধ্যে নিজেই একটা ছবি বানালাম সম্পূর্ণ আনাড়িদের নিয়ে সারা পৃথিবী জুড়ে থাকেন এমন দম্পতিদের সঙ্গে। কেউ ক্যামেরার সম্মুখীন কোনোদিন হয়নি এবং তাদের বাচ্চাদের দিয়েই আইফোন  ব্যবহার করে শুট করা হয়েছে।  ছবি দেখে কিন্তু কেউ কোন কমপ্লেইন করেননি সেটার মান নিয়ে। তাই আমার আশা যে এই সমস্ত বাধা বিপত্তিও আমরা ঠিক পেরিয়ে নতুন পথে হেঁটে যেতে পারব এবং দর্শকের মন জয় করে নেব।  পরিচালক হিসেবে আমাদের বেশি খাটতে হবে মাথা চালাতে হবে ঠিকই কিন্তু অসম্ভব নয় কোন কিছুই।

You may also like

1 comment

Leave a Reply!