Home বিদেশ দড়ি ধরে মারো টান ‘ক্লাইভ’ হবে খান খান

দড়ি ধরে মারো টান ‘ক্লাইভ’ হবে খান খান

by banganews
ইতিহাসে বেশ কিছুবার দেখা গেছে একজন ব্যক্তি হয়তো এক দেশে নিষ্ঠুর, অমানবিক, শত্রু হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে আবার সেই একই ব্যক্তি নিজের দেশে বা অপর দেশে ‘নায়ক’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। কিন্তু লর্ড ক্লাইভের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা পুরোপুরিই আলাদা।  ভারতের ইতিহাসে নিজের কর্মকান্ডের জন্য তিনি তো কুখ্যাত বটেই, এবার নিজের দেশ ইংল্যান্ডেও তাঁর  মূর্তি অপসারণের জন্য বিক্ষোভ উঠেছে! ইংল্যান্ডের এক ছোট্ট শহর। নাম স্রুসবেরি। এখানেই জন্মেছিলেন দুই ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব। একজন বিখ্যাত, অপরজন কুখ্যাত। প্রথমজনের নাম চার্লস ডারউইন, দ্বিতীয়জন রবার্ট ক্লাইভ। ব্রিটেনে তার পরিচয় ক্লাইভ অব ইন্ডিয়া নামে।
বিবর্তনবাদের জনক, চার্লস ডারউইন এর এই মূর্তি শহরের পাবলিক লাইব্রেরির বাইরে শোভা পাচ্ছে। অন্যদিকে, স্রুসবেরি শহর কেন্দ্রের খোলা চত্বরে উঁচু বেদিতে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় মূর্তিটি, ব্রোঞ্জের তৈরি। গত কদিন ধরে এই শহরের মানুষ তীব্রভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এটি অপসারণের দাবি নিয়ে। শুধু তাই নয় ব্রিটেনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে দাঁড়িয়ে থাকা ক্লাইভের মূর্তি সরানোর জোরদার দাবি উঠেছে। যা প্রতিদিন আরো তীব্র হয়ে চলেছে। যারা এই দাবি জানাচ্ছেন, তাদের মধ্যে সাধারণ মানুষ যেমন আছেন, তেমনি আছেন ব্রিটেনের অনেক নামকরা লেখক-ইতিহাসবিদ। এদের একজন উইলিয়াম ডালরিম্পল। ‘হোয়াইট মুঘলস‌’ এবং ‘দ্য এনার্কি: দ্য রিলেন্টলেস রাইজ অব দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি‌’ তার লেখা বিখ্যাত দুটি বই।
সম্প্রতি আমেরিকা থেকে শুরু করে সারা বিশ্বব্যাপী জুড়ে চলছে বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে সোচ্চার বিক্ষোভ। এবার ব্রিটেনের মানুষও সামিল হলেন এই প্রতিবাদে। অন্যদিকে, রবার্ট ক্লাইভের ভারতবাসীর প্রতি অত্যাচার ও নিষ্ঠুরতার দলিল আজও জ্বলজ্বল করছে ইতিহাসের পাতায়।  উইলিয়াম ডালরিম্পল বিশ্ববিখ্যাত পত্রিকা গার্ডিয়ানে লেখা এক কলামে বেশ জোরালো ভাষায় তার যুক্তি তুলে ধরেছেন কেন তিনি রবার্ট ক্লাইভের মূর্তি অপসারণের পক্ষে। ব্রিটিশ সরকারের একেবারে প্রাণকেন্দ্র হোয়াইটহল, সেখানে ডাউনিং স্ট্রিটের পেছনে আর ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতরের সামনে কীভাবে ক্লাইভের মতো লোকের মূর্তি এখনো আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লিখেছেন, “ক্লাইভ এমন কোন ব্যক্তি নন, যাকে আমাদের এই যুগে সন্মান জানানো উচিৎ। যখন এডওয়ার্ড কোলস্টোনের (ব্রিস্টলের দাস ব্যবসায়ী) মূর্তি পর্যন্ত উপড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে, তখন সময় এসেছে এই মূর্তিটিও যাদুঘরে পাঠিয়ে দেয়ার। ব্রিটেনের যে অন্ধকার অতীত ইতিহাস, ভবিষ্যত প্রজন্মকে তা জানাতে কাজে লাগবে এটি।”
তিনি আরও লিখেছেন, “কেবল এই কাজ করার মাধ্যমেই আমরা শেষ পর্যন্ত আমাদের অতীত কৃতকর্মের মুখোমুখি হতে পারবো এবং যতকিছুর জন্য আমাদের ক্ষমা চাওয়া দরকার, সেই ক্ষমা চাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবো। এবং তারপরই এই সাম্রাজ্যবাদী অতীতের ভারী বোঝা থেকে মুক্ত হয়ে আমরা সামনে এগোতে পারবো।”

You may also like

1 comment

Leave a Reply!