Home দেশ আগামী ৮ই জুন থেকে অফিস এবং ধর্মীয় স্থানগুলিতে যেসব নিয়ম মেনে চলতে হবে

আগামী ৮ই জুন থেকে অফিস এবং ধর্মীয় স্থানগুলিতে যেসব নিয়ম মেনে চলতে হবে

by banganews

দেশজুড়ে চলছে ‘ আনলক ১’। দীর্ঘদিন ধরে লকডাউনের জেরে বন্ধ থাকা শপিং মল, অফিস এবং ধর্মীয় স্থানগুলি বৃহস্পতিবার খোলার কথা ঘোষণা করলো কেন্দ্রীয় মন্ত্রক। এই অনুমতি কার্যকর হবে আগামী ৮ জুন থেকে। তবে এই ঘোষণার সঙ্গে লাগু থাকবে অনেক নতুন নিয়ম যার প্রতিটি কড়াভাবে মেনে চলার আদেশও ঘোষনা করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে। যার মধ্যে মাস্ক পড়ে থাকা এবং ‌অন্য ব্যক্তির থেকে ছয় ফুটের দূরত্ব মেনে চলা তো রয়েইছে। রয়েছে সাবান দিয়ে অন্তত ৪০ থেকে ৬০ সেকেন্ড বা অ্যালকোহল স্যানিটাইজার দিয়ে অন্ততপক্ষে ২০ সেকেন্ড হাত ধোওয়া।

আরো পড়ুন – হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনকে করোনার চিকিৎসায় ফের ছাড়পত্র দিল WHO

ধর্মীয় স্থানগুলির ওপর লাগু করা নতুন নিয়মগুলি হলো :
১) একমাত্র কোনোরকম উপসর্গহীন দর্শনার্থীরাই প্রবেশ করতে পারবেন।
২) প্রত্যেক প্রবেশকারীকে প্রবেশের আগে থার্মাল স্ক্রিনিং করানো হবে ও তাঁর হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিস্কার করাও বাধ্যতামূলক।
৩) মাস্ক পরা থাকলে তবেই প্রবেশের অনুমতি পাওয়া যাবে।
৪) মন্দির ,মসজিদ ,সব রকম ধর্মীয় স্থানের প্রবেশপথে ৬ ফুটের দূরত্ব মেনে দাঁড়াতে হবে এবং সেভাবেই চলতে হবে।
৫) জুতো মন্দির সংলগ্ন স্থানে রেখে আসা চলবে না। দূরে কোথাও রাখতে হবে।
৬) প্রবেশ ও প্রস্থান এর আলাদা আলাদা জায়গা ও দরজা থাকা বাধ্যতামূলক।
৭) সামাজিক দূরত্ব মেনে ধর্মীয় স্থানে বসতে হবে।
৮) বসার আসন নিজেকেই নিয়ে আসতে হবে। যাওয়ার সময় সেটি ফের সঙ্গে করে নিয়েও যেতে হবে।
৯) ধর্মীয় স্থানের প্রতিমা কিংবা পবিত্র গ্রন্থ স্পর্শ করা যাবে না।
১০) ধর্মীয় স্থানে যেকোন বড় জমায়েত আপাতত বন্ধই থাকবে।
১১) কোনোরোকম প্রসাদ বিলি কিংবা জল ছেটানো যাবে না।
১২) প্রতিদিন নিয়ম করে চালাতে হবে করোনা সচেতনতার অডিও, ভিজু্্যয়াল ক্লিপ।
১৩) ধর্মীয় স্থান সংলগ্ন অঞ্চলে অবস্হিত খাবারের দোকান, ক্যাফেটেরিয়াগুলোতেও মেনে চলতে হবে সামাজিক দূরত্ব ও অন্যান্য নির্দিষ্ট নিয়ম।
শপিং মলের জন্য যেসব নিয়ম জারি করা হয়েছে তা হলো,
১) মাস্ক পরা থাকলে তবেই মলের কর্মী বা ক্রেতাদের শপিং মলে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া যাবে ।
২) শপিং মলের ভেতরে সবসময় মাস্ক পরে থাকতেই হবে।
৩) শপিং মলে প্রবেশের আগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিস্কার করা ও থার্মাল স্ক্রিনিং করানো বাধ্যতামূলক।
৪) কেবলমাত্র উপসর্গহীন ব্যক্তি শপিং মলে প্রবেশ করতে পারবে।
৫)মলের ভিতর সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে কি না তা নজরদারির জন্য প্রয়োজনে বেশী কর্মী নিয়োগ করতে হবে।
৭) মলের অন্দরে পোস্টার, কোনও স্ট্যান্ড বা করোনা নিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে হবে যথাযথভাবে।
৮) পার্কিং-এর জায়গাগুলিতে কর্মীদের মাস্ক পড়তে হবে। স্টিয়ারিং, দরজার হ্যান্ডেল, চাবি গুলিকে যথাযথভাবে জীবানুমুক্ত করে ব্যবহার করতে হবে।
৯) পার্কিং অঞ্চলে ভিড় সামলানোর ওপর বিশেষ নজর দিতে হবে।
১০) পার্কিং-এর জায়গাগুলিতে কর্মীদের মাস্ক পড়তে হবে। স্টিয়ারিং, দরজার হ্যান্ডেল, চাবি গুলিকে যথাযথভাবে জীবানুমুক্ত করে ব্যবহার করতে হবে ঘন ঘন।
১১) মলের খাবারের দোকান, ক্যাফেটেরিয়া, অন্যান্য দোকানগুলিতে সামাজিক দূরত্ব কড়াভাবে মানতেই হবে।
১২) মলের বয়স্ক কর্মী, অন্ত্বঃস্বত্তা কর্মীদের নিরাপত্তার খাতিরে ক্রেতাদের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি যোগাযোগ করানো যাবে না।

আরো পড়ুন – মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে হুগলি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজারের বেশি পরিযায়ী শ্রমিকের হাতে জব কার্ড তুলে দেওয়া হলো

অফিসের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে যেসব নতুন নিয়ম জারি করা হয়েছে,
১) করোনা কনন্টেইমেন্ট জোনে কোনো অফিস থাকলে সেই সংস্থার কর্মীদের ‘ ওয়ার্ক ফ্রম হোম ‘ এর অনুমতি দিতেই হবে। কোনোভাবেই কর্মীদের সেই অফিসে আসা চলবে না।
২) এক্ষেত্রে সেই অফিসের ওই কর্মীদের ‘ লিভ ‘ কেটে নেওয়া চলবে না।
৩) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে যে কোনো অফিস বিল্ডিং এ একটি বা দুটি করোনা পজিটিভ ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া গেলে অফিস বন্ধ না করলেও চলবে। সেক্ষেত্রে ভালো করে নিয়ম মেনে ওই জায়গা জীবাণুমুক্তকরণ করার পর অফিস চালু রাখা যাবে।
৪) যদি কোনো ক্ষেত্রে অনেক করোনা পজিটিভ এর খোঁজ মেলে কোনো অফিস বিল্ডিংয়ে তাহলে অন্ততপক্ষে ৪৮ ঘন্টা সেই অফিস বন্ধ রাখতে হবে। জীবাণুমুক্তকরণ করতে হবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত ওই অঞ্চলকে নিরাপদের তকমা দেওয়া হচ্ছে ততদিন সেই সংস্থার কর্মীদের জন্য ‘ ওয়ার্ক ফ্রম হোম ‘ নিয়ম চালু থাকবে।
৫) করোনা কনন্টেইমেন্ট জোনে কোনোরকমের অফিস আপাততঃ খোলা যাবে না। সেই জায়গার শুধুমাত্র জরুরী পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত জায়গাগুলি খোলা থাকবে।
৬) মাস্ক পরা থাকলেই অফিসে কর্মীরা ঢুকতে পারবে।
৭) পারতপক্ষে সবধরণের মিটিং ভিডিও কলে করাটাই বাঞ্ছনীয়।
৮) অফিসে যেসব জিনিষ বারংবার ছোঁয়া হয় যেমন লিফটের বোতাম, বেঞ্চ, দরজার হাতল, বাথরুমের কল ইত্যাদি রোজ জীবাণুমুক্তকরণ করতে হবে।
৯) পার্কিং অঞ্চল পরিস্কার রাখতে হবে। জীবাণুমুক্তকরণ করতে হবে।
১০) অফিসের গাড়ি চালকরাও যাতে নির্দিষ্ট সব স্বাস্থ্যেবিধি ও নিয়ম মেনে চলেন সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

You may also like

2 comments

Leave a Reply!