Home লাইফস্টাইল বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস: আত্মঘাতী আচরণ ও প্রতিরোধের উপায়

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস: আত্মঘাতী আচরণ ও প্রতিরোধের উপায়

by banganews

বঙ্গ নিউস, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ঃ  বিশ্বজুড়ে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। কমছে জীবনের প্রতি ভালোবাসা। আত্মহত্যা ঠেকাতে ২০০৩ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় ইন্টারন্যাশানাল অ্যাসোসিয়েশন ফর সুইসাইড প্রিভেনশন (আইএএসপি) এবং ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেলথ (ডাব্লুএফএমএইচ) এই বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালন করে। গত ২ বছর ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার থিম আত্মহত্যা প্রতিরোধে একসঙ্গে কাজ করা। তবে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে এই থিম আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এই চরম অস্থির এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে জাতীয় পরিকল্পনা মেনে কাজ করে নিজের আশেপাশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মানসিক অসুস্থতা সম্পর্কে মানুষের ভয় কাটিয়ে ভালোবাসা এবং যত্নের মাধ্যমে মানুষকে বাঁচার অনুপ্রেরণা দেওয়াই হল মূলমন্ত্র।

আরও পড়ুন আলোর খেলা কমান, পুজো কমিটিকে অনুরোধ ফোরামের

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল মানসিক সমস্যা নিয়ে মানুষের মধ্যে যথেষ্ট ধারণার অভাব এবং খোলামেলা আলোচনা করার ক্ষেত্রে সামাজিক আড়ষ্টতা। আত্মহত্যা ঠেকাতে সচেতনতার বিকল্প নেই। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। জাগাতে হবে সুস্থ মানবিক মূল্যবোধ। হতাশাগ্রস্ত মানুষকে ফের জীবনের প্রতি ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর আত্মহত্যার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০১৯ সালে দেশে মোট ১,৩৯,১২৩টি আত্মহত্যার ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছে, যা ২০১৮ এর তুলনায় ৩.৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে আত্মহত্যার হার ০.২% বৃদ্ধি পেয়েছে।

মহারাষ্ট্রে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে সবথেকে বেশি, যার সংখ্যা ১৮,৯১৬। তারপরেই রয়েছে যথাক্রমে তামিলনাড়ুু- ১২,৬৬৫ জন, পশ্চিমবঙ্গ- ১২,৬৬৫, মধ্যপ্রদেশ- ১২,৪৫৭, এবং কর্ণাটক- ১১,২৮৮ জন। দেশের মোট আত্মহত্যার ঘটনার ৪৯.৫% ঘটেছে এই পাঁচটি রাজ্যে।

বিশেষজ্ঞদের মতে আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি হলে সাধারণত যে আচরণগুলি লক্ষ্য করা যায়, তা হল

১. মেজাজের পরিবর্তন, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরক্তি।
২. ঘুমোনোর ধরন, হয় প্রচুর ঘুমোনো বা একেবারেই ঘুম না হওয়া
৩. নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলা, কাছের মানুষদের সঙ্গে সম্পর্কে এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।
৪. পছন্দের বা ভালবাসার বস্তুগুলি অন্যদের উপহার দিয়ে দেওয়া বা উইল তৈরির ইচ্ছা।
৫. নেশার পরিমাণ বৃদ্ধি।
৬. একাকীত্বে ভোগা বা নিজেকে আঘাত করার প্রবণতা।
৭. অত্যাধিক মাত্রায় খাবার খাওয়া বা একেবারেই খাবার না খাওয়া।
৮. খুব সামান্য কারণে রাগ বা প্রতিহিংসার মনোভাব তৈরি হওয়া।

আত্মহত্যা নিয়ন্ত্রণে যে কৌশলগুলি অনুসরণ করা দরকার: –

১. সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে, যাঁরা সরাসরি সাহায্য না চাওয়ার ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসা পান না।
২. সাধারণ মানুষের মধ্যে আত্মঘাতী আচরণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক প্রচার করতে হবে।
৩. শুধুমাত্র আত্মহত্যা কমানোর দিকে লক্ষ্য না রেখে শিশু, কিশোর এবং প্রবীণদের প্রতি ভালোবাসা ও যত্নের মনোভাব বাড়াতে হবে।
৪. আত্মহত্যার মনোভাব এবং আচরণগুলির সঠিক কারণ বোঝার জন্য যাঁরা এর চিকিৎসা করবেন বা সচেতনতামূলক কাজ করবেন সেইসব ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার।
৫. হতাশাগ্রস্ত মানুষদের জীবনের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা।

আরও পড়ুন ভারতীয় বায়ুসেনায় যুদ্ধবিমান রাফালের অন্তর্ভুক্তি

বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা মহামারী গভীরভাবে মানসিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করেছে। এই মহামারী আরও কয়েক মাস বা বছর ধরে চলতে পারে। গত ছয় মাস গৃহবন্দি থাকায় ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে দুঃখ, উদ্বেগ, সংক্রমণের ভয়, হতাশা, অনিদ্রা, স্ট্রেস ডিসঅর্ডার এবং পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, অনিশ্চয়তা, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, ক্লান্তি, হতাশাবোধ, প্রাণহানির ভয়, বেতন কাটা, চাকরি হারানো, গার্হস্থ্য হিংসা এবং অর্থনৈতিক অসুবিধার কারণে মানসিক সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। তারফলেই বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। করোনা আক্রান্ত এবং সুস্থ হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেও আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। এই প্রবণতা কমাতে তাই সাধারণ জনগণের চাপ, উদ্বেগ, একাকীত্ব নিয়ে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।

You may also like

1 comment

Leave a Reply!