Home বঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণাতেই হুগলীর অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ালেন হুগলী জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি তথা জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। 

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণাতেই হুগলীর অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ালেন হুগলী জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি তথা জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। 

by banganews

রাজ্য এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এক প্রাণঘাতী ভাইরাসের কবলে সারা রাজ্য জেরবার। লকডাউন জারি রয়েছে রাজ্য জুড়ে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে সাধারণ মধ্যবিত্তরা অসহায় হয়ে পড়েছে। হাতে কাজ নেই, আয়ের রাস্তাও বন্ধ। এই সময় এই অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এই মানুষগুলির উদ্দেশে । বিনামূল্যে চাল দেওয়ার পাশাপাশি ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন বিভিন্ন গ্রামে। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পাশাপাশি সাহায্য করছেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ও। লকডাউনের মধ্যে জুম অ্যাপের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করেছেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী প্রমুখ। কীভাবে কাজ করতে হবে সে ব্যাপারে গাইডলাইন ঠিক করে দিয়েছেন অভিষেক। মমতা বন্দোপাধ্যায় বার্তা দিয়েছেন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার জন্য। তাঁদের অনুপ্রেরণাতেই হুগলীর অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ালেন হুগলী জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি তথা জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরো পড়ুন – করোনা আক্রান্ত রোগীদের অন্তর্বাস পরেই সেবা দিচ্ছেন এই নার্স

হুগলি জেলার চন্দ্রহাটি-১ নম্বর অঞ্চলে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে -খাবার তুলে দিয়েছেন তাদের হাতে। ‘দিদিকে বলো’ -তে  ফোন করে সাহায্য চেয়েছিলেন হুগলী র বলাগড়ের শেখ হাসেম নামের এক ব্যাক্তি । তাঁর মেয়ের জন্য। অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের কাছে খবর পেয়ে শেখ হাসেমকে ফোন করে গাড়ি পাঠিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন শান্তনু বন্দোপাধ্যায়। আর্থিক সাহায্য করেন।

হুগলীর পুরশুঁড়া, খানাকুলে শান্তনু বন্দোপাধ্যায়ের  নেতৃত্বে সেখানকার অসহায় মানুষদের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন হুগলী জেলা তৃণমূল সদস্যরা।  শান্তনু বলেন, করোনার আগ্রাসনে দেশের শ্রমজীবী মানুষের ওপর এক ভয়ঙ্কর আঘাত নামতে চলেছে। অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক বা যাঁদের স্থায়ী চাকরি নেই তাঁরা চরম সংশয়ে রয়েছেন। যেটুকু আয় ছিল তা ফুরিয়ে যেতে বসেছে। কর্মহীন অবস্থায় কীভাবে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়া যাবে, এই চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই চরম সংকটের দিনে অসহায় মানুষদের পাশে আমরা সবসময় আছি।

আরো পড়ুন – ১০/১০ পেলেন এই নারী আশ্চর্য এই ভিডিও ভাইরাল নিমেষে

করোনা সংকটে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ালেন শান্তনু বন্দোপাধ্যায়। বলাগড় থানার ওসি অর্ণব গাঙ্গুলী সাথে বলাগড় থানা স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন এর উদ্যোগে খেলোয়াড়দের বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। ডুমুরদহ, খামারগাছি ও জিরাট এলাকার মুখোশ শিল্পী ও রণপা শিল্পীদের বাড়িতে জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যারা সবসময় সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটায় আজ করোনায় তাঁদের মুখের হাসি ম্লান হয়ে গেছে। ডুমুরদহ গ্রামে চাল, ডাল, আলু, তেল, সাবান-সহ গেরস্থালির সমস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেওয়া হল প্রায় ১০০টি পরিবারের হাতে। মুখোশ ও রণপা শিল্পী ছাড়াও প্রাপকের তালিকায় ছিলেন আদিবাসী নৃত্যশিল্পীরাও। লকডাউনে অনুষ্টান নেই আনন্দ নেই। মমতা বন্দোপাধ্যায় শিল্পীদের সাহায্য করার পাশাপাশি এদের কথাও ভুলে যাননি। শান্তনু বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এদের কাছে সাহায্য পৌঁছে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী ।

 শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়াল হুগলি জেলা যুব তৃণমূল। রাজ্যজুড়ে সমস্ত শহিদ পরিবারের খেয়াল রাখেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতি বছর একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে শহিদদের স্মরণ করার কর্মসূচিতে শহিদ পরিবারগুলির সদস্যদের নিয়ে এসে উত্তর প্রজন্মের কাছে এঁদের পরিচয় করানোর দায়িত্বটিও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ।

আরো পড়ুন – দু’মাস পরে শুরু হলো অন্তর্দেশীয় বিমান পরিষেবা -জেনে নিন নতুন নিয়ম ।

১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত যে সমস্ত তৃণমূল কর্মীরা খুন হয়েছেন তাঁদের পাশেও দাঁড়াল হুগলি জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। এদের খোঁজ খবর নিয়ে এদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। শহীদের তালিকায় রয়েছেন আরামবাগের অনন্ত দোলুই, পুরশুড়ার যুধিষ্টির দোলুই, খানাকূলের গোলাম আম্বিয়া কাজি, গোঘাটের মদন চক্রবর্তী। এদের পরিবারের কাছে পৌঁছে যায় হুগলি জেলা তৃণমূল  যুব   কংগ্রেসের সভাপতি শান্তনু বন্দোপাধ্যায় সাথে ছিলেন বিধায়ক স্নেহাশিস চক্রবর্তী, বিধায়ক মানস মজুমদার, কৃষ্ণচন্দ্র সাঁতরা, জেলা পরিষদের সভাধিপতি মেহবুব রহমান-সহ জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের অনেকেই। শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের জানিয়েছেন শহিদ পরিবারগুলির খবর নিতে। সেই অনুযায়ী আমরা তাঁদের পাশে রয়েছি। শহিদ পরিবারগুলিও তো তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ধিত পরিবার। তাই আমরা যেমন পরিবারের খোঁজ রাখি, বাজারঘাট করি, সেভাবেই শহিদ পরিবারগুলির পাশে থাকার কর্তব্য পালন করছি।”

আরো পড়ুন – লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশীকে গুলি করে হত্যা

হুগলীর তারকেশ্বর থেকে গুপ্তিপাড়া, চাঁপদানি থেকে ত্রিবেণী প্রায় সব জায়গাতেই গত ২৫ মার্চ থেকে বিনা পয়সার বাজার বসানোর পাশাপাশি করোনা ভাইরাস সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন হুগলী জেলার যুব তৃণমূল কংগ্রেস। চুঁচুড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সন্দীপ দত্ত  অগ্ন্যাশয় ও যকৃতের রোগে অসুস্থ থাকার কারণে গত দু’বছর ধরে স্থায়ী কোনও কাজ করতে পারেন না, রেশন কার্ডও নেই। তিনি সাহায্য চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন হুগলি জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে। চিঠি পাওয়া মাত্রই পুরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের যুব তৃণমূল সভাপতি সোমনাথ সরকারকে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেন। এরপরই সোমনাথবাবু পৌঁছে যান সন্দীপ দত্তের বাড়িতে। তাঁর হাতে তুলে দিয়েছেন নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এই ঘটনায় আপ্লুত সন্দীপবাবু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করার পাশাপাশি শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সোমনাথ সরকারকেও অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এইভাবেই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন হুগলি জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়।

You may also like

1 comment

Leave a Reply!