Home বিনোদন করোনা আবহে বহু কিশোর কন্ঠি কর্মহীন গুরু চিরসবুজ কিশোর কুমারের জন্মদিনেই

করোনা আবহে বহু কিশোর কন্ঠি কর্মহীন গুরু চিরসবুজ কিশোর কুমারের জন্মদিনেই

by banganews

আজ চিরসবুজ কিশোর কুমারের জন্মদিন।১৯২৯ সালের ৪ আগষ্ট মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়া তে এক বাঙালি পরিবারে তাঁর জন্ম হয়। তাঁর বাবা ছিলেন কুঞ্জলাল গাঙ্গুলি, ছিলেন একজন আইনজীবী। মা গৌরি দেবী ছিলেন গৃহ বধু। কিশোর কুমার ছিলেন চার ভাই বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট।দাদা অভিনেতা অশোক কুমারের হাত ধরে বড় হয়ে অভিনয় জগৎ এ পা রাখেন কিশোর কুমার। কিন্তু অভিনয়ের প্রতি তাঁর আকর্ষন ছিলো না, আকর্ষন ছিলো গানের প্রতি। প্রথাগত সঙ্গীত শিক্ষা তিনি না পেলেও তিনি নিজের গুরু মানতেন হিন্দি চলচ্চিত্রের প্রথম যুগের বিখ্যাত গায়ক কুন্দ সেয়গালকে। তাঁর গান থেকেই গানের প্রতি ভালোবাসা। এরপর চলচ্চিত্র জগৎ এ পা রেখে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। শচীন দেববর্মন, রাহুল দেববর্মন সহ একাধিক বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালকদের সাথে মিলে একাধিক কালজয়ি গান উপহার দিয়ে গেছেন কিশোর কুমার।রাজেশ খান্না বা অমিতাভের মতন একাধিক অভিনেতাকে হিট করিয়ে জন্ম দিয়েছে কিশোর কুমারের গান। রাজ কাপুর থেকে সত্যজিৎ রায় তৎকালীন প্রায় সমস্ত বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালকদের তালিকায় গান গাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন কিশোর কুমার।বাঙলা, হিন্দি, উর্দু, অসমীয়া, মালায়লি সহ একাধিক ভাষায় তিনি গান গেয়েছেন। লতা মঙ্গেশকর, মহম্মদ রফি, মান্না দের মতন কালজয়ি গায়কদের সাথেও ডুয়েট গাওয়ার রেকর্ড আছে তাঁর। তাঁর পুত্র বলিউডের পরিচিত গায়ক অমিত কুমারও বিখ্যাত হয় বাবা কিশোর কুমারের কন্ঠে গান গেয়ে। মৃত্যুর তিন দশক পরে আজ ও যুবক-যুবতিদের প্রেম হোক, বিরহ হোক, দুঃখ হোক, শিশুদের হাসি হোক সর্বত্র ই ছেয়ে আছে কিশোর কুমার। গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে আজও গবেষনার বিষয়। বিভিন্ন বড় বড় মিডিয়ায় গানের শো গুলোতে ছেয়ে থাকে এখনও কিশোর কুমার। এত জনপ্রিয় গায়ক ভারতীয় সিনেমা জগৎ এ বিরল।১৩ ই অক্টোবর, ১৯৮৭ সলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজের মুম্বাইয়ের বাড়িতে প্রয়াত হোন কিশোর কুমার ৫৮ বছর বয়সে। কিন্তু আজ ও তার ‘মেরে সামনে ওয়ালে খিড়কি ম্যায় এক চাঁদ কা টুকরা রেহতা হ্যায়’, ‘এক চতুর ও নাড় বড়ে হোঁসিয়ার’, ‘চিঙ্গারি’, ‘বাঁচনা এ হাঁসিনা’, ‘পল পল দিলকে পাস’, ‘ছুঁ ক্যার মেরে মন কো’, ‘নিলে নিলে অম্বর’, ‘জিন্দেগি এক সফর হ্যায় সুহানা’ সহ একাধিক জনপ্রিয় গানগুলো জীবিত আছে মানুষের প্রানের গান হয়ে। হিন্দি গানের পাশাপাশি একাধিক জনপ্রিয় বাংলা গান ও রবীন্দ্রসঙ্গীত আজ ও শোনা যায় বিভিন্ন পূজা মন্ডপে। সামনেই পুজো আসছে প্রতিবারের মতন এবারেও বাজবে তার গান পূজা মন্ডপে। কিশোর কুমার মারা গেছেন তিন দশক পার করেও বহু মানুষের জীবন জীবিকা এখন ও সেই কিশোর কুমারের গান।যখন করোনা ছিলো না,লকডাউন মানুষ দেখেনি তখন প্রায় ই ট্রেনে উঠলে শোনা যেতো কিশোর কুমারের নানা কালজয়ী গান কিশোর কন্ঠিদের গলায়। যাত্রীদের কিশোর কুমারের গান শুনিয়ে তারা উপার্জন করতো। ট্রেনের দীর্ঘ যাত্রা পথে যাত্রীদের কাছে একটা ভালো বিনোদনের অবসর হয়ে উঠতো কিশোর কুমারের গান। কিন্তু বিগত দেড় বছর ধরে করোনা আবহে লকডাউন ও আনলক প্রক্রিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিধি নিষেধ জারি থেকেছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই লোকাল ট্রেনগুলোতে ও চেনা ছবি হারিয়েছে। এর মধ্যে হারিয়েছে কিশোর কন্ঠিরাও। তারা এখন কোথায় কি‌ করছে আমরা জানি‌ না? কেউবা অভাব অনটনে কর্মহীন হয়ে দিন কাটাচ্ছেন কেউ বা সঙ্গীতের পেশা ছেড়ে অন্য জীবিকার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। বড় বড় রিয়েলিটি সো এর দৌলতে কিছু সঙ্গীত শিল্পীর জীবিকা স্বাভাবিক থাকলেও বহু কিশোর কন্ঠি গায়ক যারা ট্রেনে বাসে রাস্তায় কিশোরের গান গেয়ে পয়সা উপার্জন করতেন তাঁদের জীবিকা আজ সংকটের মুখে। আজ কিশোর কুমারের জন্ম দিনে কিশোর কুমারের গান নিয়ে জীবন জীবিকা চালানো বহু মানুষের রুজি-রুটির করোনা সংকট কালে আজ গোলাপ হীন গোলাপের কাঁটার মতন বিঁধছে।

You may also like

Leave a Reply!