Home দেশ পথচলতি মানুষকে ১ টাকায় ইডলি খাওয়ান এই প্রৌঢা

পথচলতি মানুষকে ১ টাকায় ইডলি খাওয়ান এই প্রৌঢা

by banganews

সন্তানের মুখ দেখে মা বুঝতে পারেন, সন্তানের মনে কি চলছে, পেটে খিদে আছে কি নেই৷ ঘরে খাবার থাক না থাক সন্তানের খিদের জ্বালা মেটাতে মা  নিজের মুখের অন্নটুকুও দিয়ে দেন সন্তানকে৷

এমনই একজন মা কোয়েম্বাটুরের কমালাথল। বয়স ৮৫ ছুঁই ছুঁই। শীর্ণকায় গোটা দেহ, বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর। তবুও তার ইচ্ছা শক্তি অদম্য। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য প্রৌঢার প্রাণ কাঁদে৷ তাই সামান্য একটা টাকাতেই  ক্ষুধার্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের ইডলি খাওয়াচ্ছেন তিনি।   ইডলির সঙ্গে থাকে সাম্বার ও চাটনি।

গত তিন দশক ধরে এই প্রৌঢা করে চলেছেন এই কাজ। লকডাউনে যখন বিভিন্ন দেশের পরিযায়ী শ্রমিকরা আটকে পড়েছেন, তখন কাজ হারিয়ে অনাহারে বহু মানুষ৷ দুবেলা দুমুঠো অন্ন সংস্থান করা তাদের পক্ষে দুঃসাধ্য৷ এই সময় হোটেলে খাওয়ার মতো সামর্থ্য ছিল না তাদের। এঁদের অন্নসংস্থানের কথা মাথায় রেখেই কমালাথলএর এই উদ্যোগ।

লকডাউনের পরে মূল্যবৃদ্ধির জেরে জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া। কিন্তু তবুও তিনি ইডলির  দাম বাড়াননি। কিন্তু কেন এমন করলেন তিনি? তাঁর উত্তর,  “লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে সত্যিই ভীষণ অসুবিধায় পড়েছি। কিন্তু চোখের সামনে দেখেছি, কীভাবে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক আটকে পড়েছেন। তাঁদের খাবার নেই। যদি কম টাকায় খাবার পান, তাহলে তাঁদের পেট ভরবে। বেঁচে থাকতে পারবেন তাঁরা। লকডাউনের পর থেকে তাই দেখছি, অনেকে আসছেন দোকানে। আমি ওঁদের পেট ভরাতে তাই কষ্ট করে হলেও একটাকায় বিক্রি করছি ইডলি।”

কমালাথল প্রতিদিন ভোর সাড়ে পাঁচটায় উঠে ইডলি তৈরি শুরু করেন , দুপুর পর্যন্ত ইডলি তৈরি করেন ৷ প্রতিদিন তাকে গড়ে ৪০০- ৫০০ টা ইডলি বানাতে হয়৷ কিন্তু দিন শেষে আয় মেরেকেটে শ দুয়েক টাকা৷ টেনেটুনে দিনগুজরান হয় তাতে৷ ব্যবসায়িক স্বার্থে চাইলেই তিনি ইডলির দাম বাড়াতে পারতেন। কিন্তু না,  তিনি যে স্বয়ং মা অন্নপূর্ণা।  সন্তানের পেট ভরলেই তিনি খুশি৷

You may also like

Leave a Reply!