Home Onno Pujo 2020 স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুভ মহালয়ার আনন্দে মেতে উঠল হোমের আবাসিকরা

স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুভ মহালয়ার আনন্দে মেতে উঠল হোমের আবাসিকরা

by banganews

তমলুক, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ঃ  অতি প্রাচীনকাল থেকে শ্রী রামচন্দ্রের অকাল বোধন, বাঙালির প্রিয় শারদীয় দুর্গোৎসব। বাঙ্গালীরা দেশে-বিদেশে যেখানেই থাকুন না কেন পুজোর আনন্দে সবাই মেতে উঠেন। আগমনির উপলক্ষে পিতৃপক্ষের শুরু হয়েছে মহালয়ায় চন্ডীপাঠ আশ্বিনের বাতাসে কাশফুল, শিউলি ফুল ঢেলে দেয় ধরীত্রিতে আকাশে দেখা যায় তুলোর মতো পেজাঁ মেঘের অপরূপ দৃশ্য আর পুজোর আনন্দে ভরে উঠে মন। মলমাস থাকার জন্য এক মাস পূর্বে মহালয়া শুরু হচ্ছে।

আরও পড়ুন কোন খবর লুকোচ্ছেন গায়িকা ইমন চক্রবর্তী?

প্রতিবছরই নিমতৌড়ী তমলুক উন্নয়ন সমিতির দিব্যাঙ্গরা মহালয়ায় মায়ের আগমনীতে মহিষাসুরমর্দিনী পরিবেশন করে থাকে, এবছরও তার ব্যতিক্রম হল না। এবার বিশেষ বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শ্রবন দিব্যাঙ্গরা না থাকলেও নিমতৌড়ী হোমের প্রায় ১০০ জন মানসিক প্রতিবন্ধী মহিলারা থাকে, তারাই নৃত্য শিক্ষিকা রূপশ্রী মান্নার বিশেষ প্রশিক্ষনে মহিষাসুরমর্দিনী পরিবেশন করল। সকাল থেকেই হোম জুড়ে সাজো সাজো রব সোনিয়া, মালেখা, সয়েতা, সন্ধ্যা, পূজা এরা সকলেই মানসিক প্রতিবন্ধী। এদের মধ্যে কেউ সাজলো দশভূজা দুর্গা, মহিষাসুর, লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক, গনেশ, বীরেন্দ্র ভদ্রের চন্ডীপাঠ, নিজেদের অভিনয়ে মায়ের আগমনীতে হল মহিষাসুরমর্দ্দিনী। নিমতৌড়ী তমলুক উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক যোগেশ সামন্ত জানান প্রতিবছরই শারদ উৎসবে মহালয়ার দিন মহিষাসুরমর্দিনী চন্ডীপাঠ হত। পুজোতে নতুন পোশাক, পুজো পরিক্রমা, পুষ্পাঞ্জলি, মাতৃদর্শন এসব থেকেই থাকে, শুধু তাই নয় পুজোর সময় দিব্যাঙ্গ শিল্পীরা মনোরম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে পূর্ব পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা বিভিন্ন পুজো মন্ডপে আমন্ত্রন পেত। কিন্তু এবার অতিমারীর জন্য এখনও কোন ডাক আসেনি তাহলেও হোমের মেয়েরা মহালয়ার অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে এটাই আমাদের কাছে বড় প্রাপ্তি। প্রায় ৩৫ দিন ধরে নৃত্য শিক্ষিকা রূপশ্রী মান্না এই সব মানসিক প্রতিবন্ধীদের তালিম করে তুলেছেন। আজ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মহালয়ার পূর্ণ্য লগ্নে মায়ের আগমনী বার্তায় পরিবেশন করলো মহিষাসুরমর্দিনী।

আরও পড়ুন মহালয়ায় দেবী দুর্গার কাছে কী চাইলেন প্রধানমন্ত্রী?

প্রশাসনের অনুমতি পেলে পুজো পরিক্রমাও হবে,  প্রতিবছরই মাননীয় মন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় পুজোয় নতুন পোশাক বন্দোবস্ত করেন এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছেনা। ব্যতিক্রম শুধু সাবলীলভাবে মায়ের দর্শনে এখন সবাই ভারাক্রান্ত মনে পুজোর অপেক্ষায় তাকিয়ে আছে। ইতি মধ্যেই যদি অতিমারির ভ্যাকসিন আমাদের কাছে পৌঁছায় তাহলে প্রতি বছরের মতো এবছরও শারদীয় দুর্গোৎসবে সাধারণ মানুষের মতো একেবারেই আত্মহারা হয়ে উঠবে হোমের আবাসিকরা মায়ের কাছে সেই প্রার্থনা জানাই। অতি অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাক্স ব্যবহার করে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, স্যানিটাইজার ব্যবহার করে আমরা যেন মায়ের দর্শনে শামিল হতে পারি। আর মনে মনে কামনা করি এই অতি মহামারি থেকে আমাদের সকলকে মুক্ত করো মা।

You may also like

Leave a Reply!