Home বিদেশ মাটি আর বাঁশ দিয়ে তৈরি বাংলাদেশের বিখ্যাত ‘মেটি’ স্কুল

মাটি আর বাঁশ দিয়ে তৈরি বাংলাদেশের বিখ্যাত ‘মেটি’ স্কুল

by banganews
“দীপশিখা মেটি স্কুল” হল বাংলাদেশের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেটি দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের রুদ্রাপুর গ্রামে অবস্থিত। এটি মাটির তৈরি একটি ভিন্নধর্মী বিদ্যানিকেতন। স্থানীয় মানুষের ঐতিহ্য ও পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে এই বিদ্যালয়ে। এর খ্যাতি মাটি ও বাঁশ দিয়ে তৈরি ভিন্নধর্মী নির্মাণশৈলীর জন্য। আর এ কারণেই 2008 সালে পেয়েছে আগা খান আর্কিটেকচার অ্যাওয়ার্ড।
এছাড়া, অ্যানা হেরিঙ্গার  ইমারতটি নকশা করার জন্য 2009 সালে কারি স্টোন নকশা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।
      10 বছর আগেও এই গ্রামে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। গ্রামের ছেলে-মেয়েদের পায়ে হেঁটে যেতে হতো 4-5  কিলোমিটার দূরে পাশের গ্রামের স্কুলে লেখাপড়ার জন্য। এই কষ্ট লাঘব করার জন্য এবং গ্রামের শিশু-কিশোরদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে তুলতে ‘দীপশিখা’ নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 1999 সালের 1 সেপ্টেম্বর রুদ্রাপুর গ্রামের ছোট্ট পরিসরে ‘মেটি স্কুল’ গড়ে তোলে। 2005 সালের সেপ্টেম্বর মাসে রুদ্রাপুর গ্রামে মেটির অত্যাধুনিক মাটির স্কুলঘর নির্মাণ শুরু হয়, জার্মানীর ‘শান্তি’ দাতাসংস্থার অনুদানে। অস্ট্রিয়ার লিজ ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা এ স্কুল নির্মাণে অবদান রাখেন। সহযোগিতা করেন দীপশিখা প্রকল্পের কর্মীরাও। জার্মান আর্কিটেক্ট অ্যানা হেরিঙ্গার ও এইকে রোওয়ার্গ এই ইমারতটির নক্সা করেন।
        এই স্কুলটির নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে মাটি, খড়, বালি, বাঁশ, দড়ি, খড়, কাঠ, টিন, রড, ইট ও সিমেন্ট। মাটি ও খড় মেশানো কাদা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এর দেয়াল। দেয়াল তৈরির পর সুন্দর করে সমান করা হয়েছে।
দেয়ালের ভিতের ওপর দেওয়া হয়েছে আর্দ্রতারোধক, যা মাটির নিচের আর্দ্রতা বজায় রেখে দেয়ালকে রক্ষা করছে। ইমারতটির দেয়ালের প্লাস্টারে ব্যবহার করা হয়েছে মাটি ও বালি, দেওয়ালগুলি বাইরে থেকে প্লাস্টার করা হয় নি। মেঝের প্লাস্টারের জন্য পামওয়েল ও সাবানের পেস্ট ব্যবহার করা হয়েছে যা সাধারণত ওয়াটার প্রুফ। এই স্কুলটির 9 ফুট উচ্চতার ওপরে প্রথম তলায় ছাদ হিসেবে বাঁশ বিছিয়ে ও বাঁশের চাটাই দিয়ে মাটির আবরণ দেওয়া হয়েছে। 10 ফুট উচ্চতার ওপরে দোতলার ছাদে বাঁশের সাথে কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। ওপরে বৃষ্টি প্রতিরোধ করার জন্য দেওয়া হয়েছে টিন। কোথাও ইট ব্যবহার করা না হলেও ঘরের কাঠামো হিসেবে ইট ব্যবহার করা হয়েছে।
        এই স্কুলটি ছয় কক্ষ বিশিষ্ট মাটির তৈরি একটি দোতলা ভবন। এর আয়তন প্রায় 8 হাজার বর্গফুট। ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে 17 লাখ টাকা। অন্যদিকে ভবনের ভেতরে রয়েছে শীতের দিনে গরম এবং গরমের দিনে ঠান্ডার ব্যবস্থা। জার্মান ও অস্ট্রিয়ার 10 জন ছাত্র ও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্থানীয় 19 জন শ্রমিকের সমন্বয়ে মেটি স্কুল নির্মিত হয়েছে। 2007 সালে বিশ্বের 13 টি স্থাপত্যের সাথে মেটি স্কুলকে আগা খান অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করা হয়।
        রুদ্রাপুর বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম হলেও স্কুলটির কল্যাণে এখন দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে বিখ্যাত একটি গ্রাম। পর্যটকরা আসছেন মেটি স্কুলের নির্মাণশৈলী দেখতে।
এই স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের নাচ,গান,অভিনয়,আঁকা,দলীয় আলোচনা ও কথোপকথন ভিত্তিক ইংরেজি শেখানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজও শেখানো হয়। বর্তমানে এই স্কুলে শিশুশ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করানো হয়। মেটি মূলত একটি সংগঠনের নাম, পুরো নাম মডার্ন এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (মেটি)। কম খরচে এবং হাতের নাগালের মধ্যে জিনিসপত্র ব্যবহার করে মানুষের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে মেটি। মেটির উদ্দেশ্য আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষাদান, শিক্ষার প্রতি স্থায়ী ও ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি, যুক্তিযুক্ত চিন্তার বিকাশ ও দলীয়ভাবে শিক্ষাগ্রহণ।
সৌজন্যে : দেবদত্তা ভট্টাচার্য

You may also like

1 comment

Leave a Reply!