Home Onno Pujo 2020 পোড়া রুটি ও পোড়া মাছ ৪৪৭ বছরের কাশীজোড়া রাজবাড়ির পুজোর অন‍্যতম অঙ্গ

পোড়া রুটি ও পোড়া মাছ ৪৪৭ বছরের কাশীজোড়া রাজবাড়ির পুজোর অন‍্যতম অঙ্গ

by banganews

পাঁশকুড়া, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ঃ  সালটা ১৫৭৩। দেবী মহামায়ার স্বপ্নাদেশে আসার পর থেকেই দুর্গাপুজোর সূচনা হয় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়ার কাশীজোড়া রাজবাড়ীতে। যে পুজোর অন্যতম অঙ্গ বলা চলে পোড়া রুটি ও পোড়া মাছ। এর সাথে বর্তমানে দেবীর ভোগে সাজিয়ে দেওয়া হয় নানান ধরনের পঞ্চ ব্যঞ্জন।

তৎকালীন ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, পুরীর মন্দিরকে মুঘলদের হাত থেকে বাঁচিয়ে উড়িষ্যার রাজার কাছ থেকে উপহার স্বরূপ কাশীজোড়া পরগনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন পাঞ্জাবের গঙ্গানারায়ণ রায়। সেই সময় অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ছিলেন গঙ্গানারায়ণ রায়। ফলে রাজ্যপাট চালাতে কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। এমন সময় দেবী দশভুজা স্বপ্নে এসে গঙ্গানারায়ণকে বলেন তাঁর পুজো শুরু করার জন্য। তবেই সুন্দর ভাবে চলবে গঙ্গানারায়ণের রাজ্যপাট। তবে আর্থিকভাবে দুর্বল গঙ্গানারায়ণের  সেসময় পুজো করা নিয়েও দুশ্চিন্তা দেখা দেয়। কারণ তিনি এতটাই আর্থিকভাবে দুর্বল ছিলেন যে জাঁকজমক করে পুজো করার সেরকম অর্থ তার কাছে ছিল না।

আরও পড়ুন এবছর দুর্গোৎসব নিয়ে অতি সতর্ক বেলুড়মঠ

এরপরই দেবী দশভুজা আবার স্বপ্নাদেশে এসে বলেন ভোগে শুধুমাত্র পোড়া মাছ, পোড়া রুটি ও লাল নোটে ডাটা দিয়ে ডালের টক দিলেই তিনি সন্তুষ্ট। এরপরই কাশীজোড়া রাজবাড়ীর রাজা গঙ্গানারায়ন রায় শুরু করে দেন দেবী মহামায়ার আরাধনা। সাথে স্বপ্নাদেশে দেবীর আদেশ মত ভোগের আয়োজন করেন। আর এরপর থেকেই সুন্দর ভাবে চলতে শুরু করে রাজ্যপাট। আর্থিকভাবেও শক্তিশালী হয়ে ওঠেন গঙ্গানারায়ন রায়। গঙ্গানারায়ণের এই কাশীজোড়া পরগনা উপহার পাওয়ার পেছনেও রয়েছে ইতিহাসের ব্যাখ্যা। জেলার ইতিহাসের পাতা উল্টে জানা যায়, পাঞ্জাবের বাসিন্দা গঙ্গানারায়ণ রায় পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করতে করতে তিনি উড়িষ্যায় এসে পৌঁছান। যে সময় মুঘলরা একের পর এক ঐতিহ্যশালী স্থাপত্য ও ধর্মীয় স্থান ভেঙে ফেলছে ক্রমশ। ফলে পুরীর মন্দির ধ্বংস করারো ছক কষেছিল মুঘলরা। সে সময় উড়িষ্যার রাজা মন্দির রক্ষার জন্য একজন উপযুক্ত সেনাপতির খোঁজ শুরু করে দেন। এসময় পুরীর রাজার নজরে আসে পাঞ্জাবের গঙ্গানারায়ণ রায়। রাজার আদেশে সেনাপতি হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর তিনি পুরীর মন্দির কে ভেঙে ফেলার হাত থেকে রক্ষা করেন। এতে কার্যত মুগ্ধ পুরীর রাজা। পুরীর রাজা ঠিক করেন গঙ্গা নারায়ণ রায়কে কিছু উপহার দেওয়ার। আর সেই মতো পুরীর রাজা কাশীজোড়া পরগনা গঙ্গা নারায়ণের হাতে তুলে দেন। আর এর পরেই ঘোড়ায় চেপে কাশীজোড়া পরগনায় এসে দেবের স্বপ্নাদেশ মত দেবী দুর্গার পূজার্চনা শুরু করে দেন। বর্তমানে দেবীর স্বপ্নাদেশে বলা পদের পাশাপাশি সন্ধি পুজোর দিন দেবীকে দেওয়া হয় পঞ্চ ব্যঞ্জন।

আরও পড়ুন আলোর খেলা কমান, পুজো কমিটিকে অনুরোধ ফোরামের

কাশীজোড়া রাজবাড়ির পূজো সেকালের ঐতিহ্য আজও বহন করে চললেও বর্তমান চলতি বছরে কোথাও যেন দুশ্চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে রাজবাড়ীর সদস্যদের মধ্যে। যার মূল কারণ বিশ্ব মহামারী করোনা। পুজো হবে। কিন্তু কাশীজোড়া রাজপরিবারের পুজোর ভিড় সামলাবেন কিভাবে? সেটাই যেন এখন দুশ্চিন্তা রাজ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। কাশীজোড়া রাজপরিবারের সদস্য প্রতাপ নারায়ন রায় বলেন, “সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা রয়েছে কোথাও পুজো হোক বা না হোক রাজবাড়ির পুজো নিশ্চিত হবে। বংশ-পরম্পরায় চলে আসা প্রথা আমরা কোনও ভাবেই বন্ধ করতে পারি না৷ তাই পুজো হবেই। তবে সরকারের সমস্ত নিয়ম ও জায়গা বাড়িয়ে সামাজিক দূরত্বের বিধি নিষেধ মেনে সুষ্ঠুভাবে পুজো সম্পন্ন করা টাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

সবমিলিয়ে বলা চলে করোনার গ্রাসে কোথাও যেন চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সকলের মনে। সাথে সাথে কাশীজোড়া রাজ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভিড় এড়ানোর চিন্তা তো রয়েইছে।

You may also like

3 comments

Leave a Reply!