Home দেশ বিরোধী থাক, বিরোধ নয়—গোটা দেশের ‘বড়দাদা’ প্রণব

বিরোধী থাক, বিরোধ নয়—গোটা দেশের ‘বড়দাদা’ প্রণব

by banganews

দিল্লি, ৩১ অগাস্ট, ২০২০ঃ   প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বিরোধী হতে পারে, কিন্তু শত্রু হতে পারে না। দিল্লি রাজনীতির অলিন্দে এই কথাটাই কেমন যেন মিথ হয়ে উঠেছিল।
বিরোধী তো থাকবেই। তিনি যখন একটি নির্দিষ্ট দলের রাজনীতি করেন, অন্য দল তাঁর বিরোধী।
কিন্তু শত্রু নেই কেন?
কারণ, ভিন্ন মতাদর্শকে কোনওদিন শত্রু বলে মনেই করেননি প্রণববাবু।
নইলে অটলবিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে তিনি রোজ ভোরে হাঁটতে বেরোতেন কখনও! কিংবা চা খেতে যান তাঁর বাড়িতে! এটা একরকম নিয়ম ছিল যে। একদিন প্রণববাবু যাবেন অটলজির বাড়ি। একদিন অটলজি আসবেন প্রণববাবুর কাছে। সকালের চা এবং টা একসঙ্গে খাবেন। হবে কিছু খোশগল্পও।

আরও পড়ুন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ ও স্মৃতিচারণা করে ট্যুইট মোদি-মমতার

আর তারপরে, এক সাক্ষাৎকারে বিনা দ্বিধায় সোচ্চারে তিনি বলেও দেন, অটলজির মতো এমন স্তম্ভ অধুনা ভারতীয় সংসদে আর নেই।
না। তাঁর নিজস্ব রাজনীতি কখনও প্রণববাবুর বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
বিরোধী বলতে তিনি কী বুঝতেন? প্রণব মুখোপাধ্যায়কে খুব কাছ থেকে দেখা বর্ষীয়ান সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, বিরোধী তাঁরাই, যাঁদের সঙ্গে বিতর্ক করা যায়, আলোচনা করা যায়, প্রয়োজনে ভোটাভুটি করা যায়। বিবাদ বা বিতণ্ডা নয়।
তাই ২০০৭ সালে যখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় এল, বিরোধী দলের সদস্যরাই কংগ্রেস সুপ্রিমো সোনিয়া গান্ধিকে অনুরোধ করেছিলেন, প্রণববাবুকে এই পদে নিয়ে আসুন।
সোনিয়া শুনলেও খুব মুশকিলে পড়েছিলেন বইকি। প্রণববাবুকেই ডেকে পাঠিয়ে মুশকিল আসানের উপায় জানতে চাইলেন।
মুশকিলটা কী?
“আপনি রাষ্ট্রপতি হয়ে গেলে আপনার এক সার্থক উত্তরসূরির নাম বলে যান, যিনি দলের দায়িত্বগুলো নিপুণভাবে সামলাতে পারবেন।”
অসহায়ের মতো প্রণবের উত্তরসূরির খোঁজে প্রণবেরই মুখ চেয়ে আছেন সোনিয়া।
প্রণববাবু নিজেও বোধহয় খুঁজে পেলেন না। হেসে উঠলেন খুব জোর।
অসহায়ত্ব কাটাতে আর হাসি ছাড়া কী-ই বা আছে। হেসে উঠলেন সোনিয়া গান্ধিও।
প্রণববাবুর সেবার আর ‘জিরোনো’ হল না। নিজেই বললেন রসিকতা করে, “ভেবেছিলাম বড় বাড়িটায় গিয়ে একটু বিশ্রাম নেব। সে আর এ যাত্রা হল না!”

আরও পড়ুন রাজনীতির হাতেখড়ি এখানেই, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকাহত মহিষাদল

তবে তার ঠিক পাঁচ বছর পরে, ২০১২ সালে অবস্থা এমন দাঁড়াল, বিতর্কে জেরবার দলটা প্রণব মুখোপাধ্যায় ছাড়া আর দ্বিতীয় কারও নাম প্রস্তাব করলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে হেরে যেত অবশ্যম্ভাবী।
যেখানে বিকল্প নেই আর, সেখানে একমাত্র একজনই দাঁড়িয়ে আছেন। প্রণব মুখোপাধ্যায়। বিকল্পহীন।
অন্য দল তো বটেই, এমনকী কংগ্রেসের ছায়া অবধি না মাড়ানো শিবসেনাও এককথায় গ্রহণ করে ফেলল এই একজনকেই।
প্রণব মুখোপাধ্যায়। খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে তাঁর দল তাঁরই মুখাপেক্ষী।
এমনকী নরেন্দ্র মোদিও। প্রধানমন্ত্রী পদে প্রথমবার শপথ নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে বলে এসেছিলেন, “দাদা, কোনও ভুল হলে আপনি বলে দেবেন কিন্তু। আমার মন্ত্রীরা কোনও ব্যাপারে যা সিদ্ধান্ত নেবে, আগে আপনাকে জানাবে।” ঘনিষ্ঠমহলে প্রণববাবু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর কথা রেখেওছিলেন।
রাষ্ট্রপতির আসনে বোধহয় এই প্রথম কোনও ‘স্যার’ বসেননি। বসেছিলেন দলমতনির্বিশেষে গোটা দেশের ‘বড়দাদা।’

You may also like

2 comments

Leave a Reply!