Home কলকাতা কলকাতায় চালু হতে চলেছে মহাকাশ মিউজিয়াম

কলকাতায় চালু হতে চলেছে মহাকাশ মিউজিয়াম

by banganews

কলকাতায় জাদুঘর তো আছেই, কিন্তু এবার প্রথম কলকাতায় খুলতে চলেছে মহাকাশ মিউজিয়াম। মহাকাশ মিউজিয়াম মানে, মহাকাশ থেকে প্রাপ্ত বস্তু নিয়ে তৈরী হওয়া একটি মিউজিয়াম। মহাকাশকেন্দ্রিক একটি জাদুঘর এটি। এই জাদুঘরে আসা দর্শকেরা মঙ্গল গ্রহের পাথর, মহাকাশের নানা বস্তু দেখতে ও ছুয়েও দেখতে পারবেন । ছোঁয়া যাবে মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝখানে থাকা গ্রহাণুদের সাম্রাজ্য- গ্রহাণুপুঞ্জ (‘অ্যাস্টারয়েড বেল্ট’) থেকে ছিটকে বেরিয়ে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণুদের শরীরের বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য, দুর্মূল্য অংশও। পৃথিবী থেকে প্রায় সাড়ে ৩৯ কোটি কিলোমিটার দূরে থাকা মঙ্গলের শিলাখণ্ডও ছুঁয়ে দেখতে পারবে লোকজন।

এমন সংগ্রহশালা ভারতবর্ষেও প্রথম। জানুয়ারি মাস থেকে এটি সর্বসাধারণের জন্য খোলা হবে বলে আশা করা যায়। তবে এমন অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন যিনি তিনি হলেন কলকাতার ‘ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্স (আইসিএসপি)’-এর অধিকর্তা জ্যোতির্বিজ্ঞানী অধ্যাপক সন্দীপ চক্রবর্তী।
মহাকাশ সংগ্রহশালা নিঃসন্দেহে কলকাতায় তৈরি হওয়া একটি নতুন অন্যরকম সংগ্রহশালা। এটি কলকাতার দর্শনীয় জায়গাগুলির তালিকায় অন্যতম একটি জায়গা হতে চলেছে আগামীদিনে৷

আরো পড়ুন 

ভাটনগর পুরস্কার প্রাপকদের মধ্যে ৪ বঙ্গসন্তান

কলকাতায় ভারতের প্রথম মহাকাশ সংগ্রহশালায় থাকছে মোট ৭টি বিভাগ। ‘মেটিওরাইট সেকশন: ভিজিটার্স ফ্রম স্পেস’, ‘এক্স-রে অ্যাস্ট্রোনমি সেকশন,’ ‘স্যাটেলাইটস অ্যান্ড ইনস্ট্রুমেন্টেশন্স’, ‘ব‌েলুন বোর্ন সায়েন্স’, ‘মিনি প্ল্যানেটারিয়াম’, ‘টেলিস্কোপ মেকিং ওয়ার্কশপ’ ও ‘আয়নোস্ফেরিক রিসার্চ অ্যান্ড স্পেস রেডিয়েশন’।

এই সংগ্রহশালা গড়ে তোলা মূলত যাঁর ইচ্ছায় তিনি হলেন সন্দীপ চক্রবর্তী। সংগ্রহশালায় যা থাকবে তা মোটের উপরে তাঁরই সংগ্রহ করা। সংগ্রহে রয়েছে বিভিন্ন জিনিস, যেমন মঙ্গলের দুর্লভ পাথর আর পৃথিবীর দিকে বিভিন্ন সময়ে ছিটকে আসা বিভিন্ন গ্রহাণুর শরীরের দুষ্প্রাপ্য, দুর্মূল্য অংশ, রাশি রাশি গ্রহাণু। আবার রয়েছে আমেরিকার আরিজোনার মরুভূমিতে ৫০ হাজার বছর আগে আছড়ে পড়া বিশাল একটি উল্কার অংশবিশেষ ( যার ওজন ১৭৩ গ্রাম)। এর ফলেই ৫৬০ ফুট গভীরতায় তৈরি হয়েছিল বিখ্যাত “ব্যারিঞ্জার ক্রেটার”।
কলকাতায় এই সংগ্রহশালা তৈরী হচ্ছে ইস্টার্ন মেট্রোপলিটান বাইপাসে আইসিএসপি-র ৩৭ হাজার বর্গ ফুট জমির একাংশে নির্মিয়মান পাঁচ তলা ভবনের এক তলায় । এই সংগ্রহশালা প্রাথমিক ভাবে ৩ হাজার বর্গ ফুট জমির উপর গড়ে উঠেছে। সংগ্রহশালা গড়ে তোলার জমি ও তার পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৪০ লক্ষ টাকা অর্থসাহায্য করেছে বলে জানা গিয়েছে।

You may also like

Leave a Reply!