Home কলকাতা চিৎকার কর মেয়ে

চিৎকার কর মেয়ে

by banganews

দুর্গাপুজো প্রতি বছরেই আসে। তাও কারোর কাছে তা একঘেয়ে পুরনো হয় না। দশভুজা অসুরদলনী দেবী দুর্গা। শিষ্টের পালন আর দুষ্টের দমন এভাবেই চিনে থাকে সকলে দেবী দুর্গাকে। দেবী দুর্গার মূর্তি মানেই তো দশটা হাত তার,সেই দশ হাতে একাধিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে তো কারোরই নেই দশটা হাত। তাও প্রতিদিন মেয়েরা রাস্তার ফুটপাতের দোকান থেকে শুরু করে কোনো অধ্যাপিকা কি অভিনেত্রী প্রতি ক্ষেত্রে প্রতি পেশায় মেয়েরা লড়াই করেই নিজেদের জীবনের চলার পথ প্রস্তুত করছে।

এই বছরেও মেয়েদের কাজের স্বীকৃতি তাদের লড়াইকে স্বীকৃতি দিতেই এক অনুষ্ঠান চালু করা হয়। তাদের এই নৈপুণ্যের স্বীকৃতি, উদযাপন, সংরক্ষণ এর জন্য, নারীশক্তির এই বিজয়কে তুলে ধরতেই সম্প্রতি শহরের গ্যালারি গোল্ডে অনুষ্ঠিত হল ‘সে আমার দুর্গা। নারীর বহুমুখী দক্ষতা উদযাপনে সৃষ্টিশীলতা, ফটোগ্রাফির মিশেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা শাগুফতা হানাফি ইভেন্টস (সি)-এর। নানা পেশায় সফল মহিলাদের সম্মানিত করা হয় পুরস্কার দিয়ে। ছবি প্রদর্শনী ছাড়াও ছিল দেবী দুর্গাকে নিয়ে কবিতা পাঠ। আজকের দুর্গাকে নিয়ে মতামত বিনিময় সেশন, ক্যুইজ। শারদোত্সবের খুশিতে নতুন জামাকাপড় তুলে দেওয়া হয় যৌনকর্মীদের সন্তানদের হাতে।

দশভূজা দেবীর বন্দনা চলছে রাজ্যজুড়ে। দেশে-বিদেশে। এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারী পুরুষের সমান অধিকারের লড়াই চলছে যেমন তেমন উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট এর কথাও উঠে আসছে বিভিন্ন প্রশ্নে। এখন মেয়েদের মধ্যেও বলা যেতে পারে দশভূজার সমান এই শক্তি, যে,কোনো কাজই সে অকুতোভয়ে গ্রহণ করে। দৈনন্দিন জীবনে যে পরিস্থিতির মুখেই পড়ুন না কেন, আজকের মেয়েরা যে কোনও চ্যালেঞ্জ জয় করতে তৈরি।

আরো পড়ুন 

মায়ের ভাগ তাহলে কার? 

বাস্তবেও প্রতিদিন আসলে একজন দেবী দুর্গা রূপী রক্তমাংসে গড়া মেয়েদের সাথে মোলাকাত হয়। দেবী দুর্গার মতোই তাদেরও নানা রূপ, নানা ভূমিকা এই জীবনে। কোথাও তিনি স্ত্রী, কোথাও মা, কোথাও বোন, কোথাও প্রতিষ্ঠান কর্মী। সব ভূমিকাতেই তিনি সমান স্বচ্ছন্দ, সাবলীল। তাঁর হাতের ছোঁয়ায় প্রাণ পায় যে কোনও প্রচেষ্টা। ঘরে, বাইরে, যে কোনও পরিস্থিতিতে একইসঙ্গে একাধিক কাজ দক্ষতার সঙ্গে সারেন আজকের মেয়েরা। তাদের সেই ভূমিকায় মিশে থাকে দায়িত্ব পালনের বোধ, শৃঙখলা, ভালোবাসা আর দায়বদ্ধতা।

এসব টা মিলেই তৈরি হয় আজকের মেয়েরা। তাই তাদের নিয়েই এই পুজোতে সেলিব্রেশন। তাদের প্রতিদিনের লড়াইকে, প্রতিদিনের জার্নিকে কুর্নিশ জানাতেই এই ফোটোগ্রাফি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে কলকাতায়। সাড়াও পাওয়া গেছে তাতে।

You may also like

Leave a Reply!