Home স্বাস্থ্য পিসিওএস মানেই গর্ভধারণে অক্ষমতা নয়

পিসিওএস মানেই গর্ভধারণে অক্ষমতা নয়

by banganews

মহিলাদের ক্ষেত্রে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম ( পিসিওএস) রোগটি এখন খুবই কমন ব্যাপার। প্রতি দশজন মহিলার মধ্যে ১ জন এখন এই রোগের শিকার। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারেরা এখন এই রোগটিকে লাইফস্টাইল ডিজিজ বলেই ব্যাখ্যা করছেন। রোগটিকে কেন্দ্র করে নানা ভ্রান্ত ধারণা ঘুরছে নেট মাধ্যম জুড়ে।

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম ( পিসিওএস) হল মহিলাদের শরীরে অ্যান্ড্রোজেন নামক একটি পুরুষ হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যাওয়া। সাধারণত প্রত্যেক সুস্থ মহিলার ডিম্বাশয় থেকে প্রতি মাসে একটি করে ডিম্বানু নিঃসৃত হয়, সেই ডিম্বাণু গর্ভাবস্থায় পরিণত হয় নাহলে সেটি নিষ্ক্রিয় হয়ে মাসিকচক্রে পরিণত হয়। কিন্তু এই অ্যান্ড্রোজেন হরমোনটি কোনো নারীর দেহে অধিক মাত্রার ক্ষরিত হলে, ডিম্বানু গুলি আর বাইরে আসতে পারেনা। ওভারিতে তৈরি হয় সিস্ট। এর ফলে মহিলাদের শরীরের বিভিন্ন অসুবিধা দেখা দেয়, যেমন
১) মাসিক চক্র বন্ধ হয়ে যাওয়া।
২)হিরসুটিজম বা শরীরে পুরুষদের মতো লোমের আধিক্য বেড়ে যাওয়া।
৩)হাইপারমেনিয়া বা দীর্ঘ রক্তস্রাব।
৪)অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া অর্থাৎ অতিরিক্ত চুল ঝড়ে যাওয়া।
৫)ওবেসিটি বা স্থূলত্ব
৬)গর্ভধারণে বাঁধা
৭)অ্যাকান্থেসিস নাইগ্রিকান্স বা ত্বকে কালো স্পট,  ইত্যাদির মতো একাধিক রোগ গুলি।

কিন্তু পিসিওএস মানেই গর্ভধারণে অক্ষমতা নয়

১৮-৪৪ বছর বয়সী মহিলারাই এই রোগে বেশি আক্রান্ত হন। এই রোগ হলে মহিলারা আর গর্ভধারণ করতে পারবেন না, অনেকেরই এই ধারণা। তবে এই ধারণাটি ভুল প্রমাণিত হতেও দেখা গেছে। সাময়িক ভাবে গর্ভধারণে বাধা এলেও, সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

যেহেতু পিসিওএসের ফলে মেয়েদের শরীরে অ্যান্ড্রোজেন হরমোন বেশি ক্ষরিত হয় তাই অনেক সময় মেয়েদের গোঁফে বা থুতনিতে লোমের আধিক্য দেখা যায়, একথাও জেনে রাখা দরকার অনেকেরই পিসিওএস থাকলেও শরীরে লোমের আধিক্য দেখা যায় না। আবার অনেকের না থাকা সত্বেও দেখা যায়।

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনেও হতে পারে অনিয়মিত ঋতুস্রাব

আবার মাসিক ঋতুচক্র যে একমাত্র পিসিওএস এর কারণেই ব্যাহত হয় তা নাও হতে পারে। অতিরিক্ত পরিশ্রম, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, ডায়েটের অনিয়মের ফলেও ঋতুচক্র বন্ধ হতে পারে৷ পিসিওএস থাকলে স্থূলত্বের সম্ভাবনা বেশি বলে জানান অনেকেই৷ কিন্তু এই সম্ভবনারও বিপরীত প্রভাব দেখা গেছে।
ভুল কিছু তথ্যের উপর ভিত্তি করে নিজের অসুখ নিজেই নির্ধারণ না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন৷ সুস্থ থাকুন।

 

You may also like

Leave a Reply!