Home কলকাতা অভিনেতা নন; সৌমিত্র ছিলেন শিল্পী, ছিলেন এক প্রতিষ্ঠান

অভিনেতা নন; সৌমিত্র ছিলেন শিল্পী, ছিলেন এক প্রতিষ্ঠান

by banganews

বঙ্গ নিউস, ১৫ নভেম্বর, ২০২০ঃ  থিয়েটারের শহর বলে পরিচিত নদিয়ার কৃষ্ণনগরে আদি বাড়ি। সেখানেই অভিনয়ে হাতেখড়ি। শিল্প ছিল তাঁর রক্তে। তিনি শুধু অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন শিল্পী। বাঙালির ড্রয়িংরুমের মহানায়ক তিনি হতে পারেননি। চায়ের ঠেকে উত্তম না সৌমিত্র এই বিতর্ক থেকে যাবে চিরদিন। কিন্তু সৌমিত্র সৌমিত্রই। তিনি ছিলেন এক প্রতিষ্ঠান। নাটক, থিয়েটার, ছবি আঁকা, আবৃত্তি, কবিতা ও প্রবন্ধ রচনা, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন আদ্যোপান্ত এক শিল্পী। পর্দায় তাঁর উপস্থিতিতে ফুটে উঠত শিক্ষা, সহবত, আভিজাত্য।

আরও পড়ুন অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণের খবরে, শোকাহত রাজবাড়ীর শহর মহিষাদল

১৯৫৯ সালে সত্যজিত রায়ের ‘অপুর সংসার’-এ বড়পর্দায় প্রথম বাঙালি দেখল এক সুদর্শন, লম্বা, ছিপছিপে, সপ্রতিভ তরুণকে। উত্তম কুমার তখনও মহানায়ক হয়ে না উঠলেও তিনি তখন পরিচিত মুখ, বাঙালি সিনেপ্রেমীরা তাঁকে আপন করে নিয়েছে। এখান থেকেই সৌমিত্রর ‘ফাইট’ শুরু। নিজের জায়গা তৈরি করে নেওয়ার লড়াই। সুদীর্ঘ ৬১ বছরের অভিনয় জীবনে প্রতিদিন সেই লড়াইয়ে জিতেছেন ‘কোনি’ ছবির ক্ষিদদা। সৌমিত্র ছিলেন এক বহুমাত্রিক প্রতিভা। ‘তিন ভুবনের পারে’-র হয়তো তোমারই জন্য গানের দৃশ্যায়নে হ্যান্ডসাম সেই নায়ক বাঙালির মননে রোম্যান্টিসিজমের শেষ কথা। অপরাজিত থেকে ‘হীরক রাজার দেশে’-র উদয়ন পন্ডিত, ‘মরুতীর্থ হিংলাজ’ থেকে ‘স্ত্রী’, বসন্ত বিলাপ, অন্তর্ধান, অভিযান, চারুলতা, তিন কন্যা, ঝিন্দের বন্দী, অশনি সংকেত, ক্ষুধিত পাষাণ, ঘরে বাইরে, তালিকাটা বিশাল। শুধুমাত্র সত্যজিত রায়ের পরিচালনাতেই ২৭টি ছবিতে অভিনয় করেন, তার মধ্যে ১৪টিতে প্রধান ভূমিকায়। বাঙালির কাছে তিনি চিরকাল ফেলুদা হয়েই থেকে যাবেন। অপর্ণা সেনের সঙ্গে তাঁর জুটির কথা আলাদা করে উল্লেখ করতেই হয়। তবে সাবিত্রী, মাধবী, সুচিত্রা সেন, লিলি চক্রবর্তীর সঙ্গে জুটিতেও তিনি জনপ্রিয়তা পান। ফিল্মের পাশাপাশি সমান তালে মুগ্ধ করেছেন মঞ্চের দর্শকদের। অভিনয়ের জন্য পদ্মবিভূষণ, দাদাসহেব ফালকে, ফ্রান্সের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান লেজিয়ঁ দ্য নর, সহ বহু পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা।

আরও পড়ুন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

জীবনের শেষবেলায় এসেও ‘বেলাশেষে’, ‘পোস্ত’-র মত ছবি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। অসুস্থ হওয়ার আগে পর্যন্ত কাজই ছিল তাঁর জীবনের মূলমন্ত্র। সহকর্মী, জুনিয়র আর্টিস্ট, পরিচালক, ছবির কলাকুশলীদের কাছে তিনি সহজ, সরল, আড্ডাবাজ, সহৃদয়। সমসাময়িক নানা বিষয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করতেও তিনি কখনও পিছপা হননি।

আজ দীপাবলীতেই ‘সাঁঝবাতি’ নিভে গেল। ভাল থেকো ফেলুদা।

You may also like

Leave a Reply!