Home বিনোদন বলিউডে ড্রাগচক্র নিয়ে সরব কঙ্গনা, শিকড় কিন্তু বহুদূর

বলিউডে ড্রাগচক্র নিয়ে সরব কঙ্গনা, শিকড় কিন্তু বহুদূর

by banganews

মুম্বই, ২৭ অগাস্ট, ২০২০: ‘‘নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো যদি বলিউডে ঢোকে, তাহলে অনেক এ লিস্টারই জেলে যাবে। রক্তপরীক্ষা হলে এমন অনেক তথ্যই প্রকাশ্যে আসবে যা সবাইকে হতবাক করে দেবে। আশা করি স্বচ্ছ ভারত মিশনে প্রধানমন্ত্রীর দফতর বুলিউড নামক নালাও পরিষ্কার করবে,’’ প্রধানমন্ত্রীর দফতরকে ট্যাগ করে টুইটারে লিখলেন কঙ্গনা রানাউত।
নিষিদ্ধ মাদক ব্যবহারে রিয়া চক্রবর্তীর নাম প্রকাশ্যে আসার পর বলিউডে মাদক নিয়ে সবার আগে সরব হলেন কঙ্গনা।
এমনকী তাঁর মেন্টর যে শুরুতে জোর করে তাঁকে মাদক দিতেন, সে কথাও খোলাখুলি বলেন তিনি। বলেন, ছবিতে সফল হওয়ার পর যখন বিখ্যাত বলিউডি পার্টিতে আনাগোনার সুযোগ পেলেন, তখন দেখলেন এই নিষিদ্ধ মাদকেরই রমরমা সেখানে।
কঙ্গনা আরও বলেন, তিনি নারকোটিক্স ডিপার্টমেন্ট’কে সাহায্য করতে চান । কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নিজের নিরাপত্তা চান তিনি।
অন্য একটি ট্যুইটে কঙ্গনা লেখেন, ‘‘ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় মাদক হল কোকেন। সব পার্টিতেই কোকেন থাকে। এই মাদকের দাম অনেক, কিন্তু শুরুতে কেউ যখন কোনও হেভিওয়েট ব্যক্তির বাড়িতে যায়, তখন তাঁকে বিনামূল্যে কোকেন দেওয়া হয়। অজান্তেই জলে মিশিয়ে দেওয়া হয়।”

আরও পড়ুন NEET JEE নিয়ে রাজ্যপালের নীরবতাতে প্রশ্ন তুললেন নুসরত

অবশ্য কঙ্গনা রানাউত এ কথা বলছেন বলে, তবেই সত্যিটা সামনে আসছে, তা নয়। সঞ্জয় দত্ত, ফারদিন খান বা মমতা কুলকার্নিকে আমরা কেউ ভুলে যাইনি নিশ্চয়ই। সঞ্জয় আর ফারদিন নিষিদ্ধ ড্রাগের কারণে দেশীয় আইনের মুখোমুখি হয়েছেন। ওদিকে মমতা কুলকার্নি আর তাঁর স্বামী ভিকি গোস্বামী তো বন্দি হয়েছেন বিদেশি আইনে। একবার মধ্যপ্রাচ্যে, একবার কেনিয়ায়। অাবার শাহরুখ-পত্নী গৌরী খানও মারিজুয়ানা রাখার অপরাধে একবার ধরা পড়েন বার্লিন বিমানবন্দরে।
তবে নাম সামনে আসে খুব কম। রাঘববোয়ালরা আইনের ফাঁক গলতে ওস্তাদ। নইলে গতবছর অকালি দলের বিধায়ক মনজিন্দর সিং যে ভিডিওটি প্রকাশ করেছিলেন, তা একরকম ধামাচাপা পড়ে যায় তখন। করণ জোহরের বাড়ির পার্টি। করণ নিজে, দীপিকা পাড়ুকোন, রণবীর সিং আর বরুণ ধাওয়ানের আচার আচরণ, মত্ততা কোনও কিছুই স্বাভাবিক ছিল না। শুধুমাত্র সুরার কারণে অমন আচরণ হতে পারে না বলে মতপ্রকাশ করেছিলেন মনজিন্দর সিং। না, সে ভিডিওর তদন্ত হয়নি তখন। শুধুই করণের একটি যুক্তিকে ঢাল করে পাশ কাটানো হয়েছিল। করণ জোহর বলেছিলেন, বাড়িতে তাঁর মা আছেন। বাচ্চারা আছে। ড্রাগ আসবে কী করে! এই একটি উত্তরের পর আর দ্বিতীয় কোনও প্রশ্নই ওঠেনি।
যদিও বর্তমানে রিয়া চক্রবর্তী আর ড্রাগ পরিবেশকদের যোগসাজশের অভিযোগের মাঝখানে আবারও করণের বাড়ির সেই পার্টির কথা নেটিজেনদের আলোচনায় জেগে উঠছে নতুন করে।
সূত্রের খবর, নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর অফিসারদের অাণুবীক্ষণিক নজরে রয়েছে বান্দ্রার এক ড্রাগ ডিলার। বলিউডের প্রথম শ্রেণিকে লাগাতার ড্রাগ সরবরাহ করা হয় তার মাধ্যমেই। এনসিবি-র কাছে খবর রয়েছে নিশ্চিত। পাকাপোক্ত প্রমাণের অপেক্ষায় গোয়েন্দারা।

কী ধরনের ড্রাগ পৌঁছয় বলিউডের হাতে?
“চরস, গাঁজা, মারিজুয়ানা দিয়ে হাত পাকানো শুরু হয়। তারারা তারপর পা ফেলেন সিন্থেটিক ড্রাগের দিকে। এরপর হেরোইন, কোকেন। বলিউডের বিশেষ পছন্দের ড্রাগ কোকেন,” জানাচ্ছেন এনসিবি-র এক তদন্তকারী অফিসার। বলা বাহুল্য, কঙ্গনার অভিযোগের সঙ্গে মিলছে তাঁর বক্তব্য।

আরও পড়ুন টিএমসিপি-র প্রতিষ্ঠা দিবস, প্রচারে অভিনবত্ব

তবে এখানেই শেষ নয়। এক্সটাসি, ফেন্টানিল, এমডিএমএ-দের প্রতিও বলিউডের প্রবল ঝোঁক। বিশেষ করে পার্টি ড্রাগ মিয়াও মিয়াও-এর জনপ্রিয়তার তো কথাই নেই, জানাচ্ছে বলিউড ঘনিষ্ঠ এক সূত্র।
রিয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে জয়া শাহ কিংবা গৌরব আর্যর ড্রাগ-চ্যাট ফাঁস হওয়ার আগে অবধিও বলিউডে ড্রাগ ছিল। পরেও থাকবে। থাকবে এ, বি, সি, ডি বিভিন্ন শ্রেণির তারাদের নিজেদের গোষ্ঠির মধ্যে শক্তপোক্ত ‘ড্রাগতুতো’ সম্পর্কও। তবে তার শিকড় শুধু বান্দ্রায় নয়, এটা নিশ্চিত। সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর দাবি সত্যি হলে, দুবাইয়ের ড্রাগব্যবসায়ীরাও বলিউডের সঙ্গে যুক্ত।
তারারা অবশ্য ব্যবসা বা শপিংয়ের জন্য দুবাই পাড়িই সবচেয়ে বেশি দেন। তাই না!

You may also like

Leave a Reply!