Home দেশ রামায়ণে বর্ণিত পুষ্পক রথ কী প্রথম আকাশযান? উত্তর খুঁজতে চাইছে খড়্গপুর আই আই টি

রামায়ণে বর্ণিত পুষ্পক রথ কী প্রথম আকাশযান? উত্তর খুঁজতে চাইছে খড়্গপুর আই আই টি

by banganews

শুনতে অবাক লাগছে ঠিকই, কিন্তু দেশের প্রাচীনতম আই আই টি-র ডিরেক্টর চান রামায়ণে বর্ণিত পুষ্পক রথ কী প্রথম আকাশযান তা নিয়ে গবেষণা করে দেখা হোক । দেশের সবচেয়ে পুরাতন আই আই টি খড়্গপুরে। এই খড়গপুর আই আই টি তে যেমন কারিগরির বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া ও গবেষণা করা হয়, তেমনই এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা বিশ্বের নানা দেশে নানা প্রান্তে নানান নামী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত । এই রকম একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা চাইছেন ‘ পুষ্পক রথ বা বিমান কী আদৌ ছিল? তা কী সত্যি আকাশে উড়ত? কোনও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কী ছিল সেই সময়ে?’ তা নিয়ে গবেষণা করা হোক ।

রামায়ণের অরণ্য কান্ডে বর্ণিত আছে যে, ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে লঙ্কাধিপতি রাবণ এসে সীতাকে হরণ করে পুষ্পক রথে করে আকাশ পথে পাড়ি দিয়েছিলেন লঙ্কায় । এই পুষ্পক রথ আগে ছিল রাবণের বৈমাত্রেয় জৈষ্ঠভ্রাতা, ধন ঐশ্বর্যের দেবতা, কুবেরের । কুবেরের কাছে থেকে তা ছিনিয়ে নেন রাবণ । রাবণ কে হত্যা করে সীতাকে উদ্ধার করে রামচন্দ্র ওই পুষ্পক বিমানে করেই ফিরে আসেন অযোধ্যা। রামায়ণের বর্ণিত পুষ্পক রথই না কী বিশ্বের প্রথম আকাশযান ।

এখন আই আই টি খড়্গপুরের অধিকর্তা চাইছেন এই পুষ্পক রথের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কী? এটাই কী প্রথম আকাশযান? তার উত্তর খুঁজে দেখুন এই প্রতিষ্ঠানের ও দেশের বিজ্ঞানীরা । সম্প্রতি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় । সেখানেই এই প্রসঙ্গটি তোলেন আই আই টি খড়্গপুরের অধিকর্তা বীরেন্দ্র কুমার তেওয়ারি । তিনি বলেন, ” আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে এই পুষ্পক রথ কী নিছক গল্পগাথা না কী এর পিছনে কোনও বিজ্ঞান ছিল? এটা নিয়ে গবেষণা করা হোক । ”

নরেন্দ্র মোদিকে ৫ পাতার চিঠি লিখে আত্মহত্যা এক কৃষকের!

রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণের যুগে বিজ্ঞান কতটা ছিল তা নিয়ে চর্চা আগেও হয়েছে । এমনকি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি অনুষ্ঠানে বছর খানেক আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রমেশ পোরখিয়াল বলেছিলেন যে রামায়ণে বর্ণিত, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে, ‘ রাম সেতু ‘ ছিল কী না তা দেখতে গবেষণা করে দেখা হবে ।
এই বার আই আই টি খড়্গপুরের অধিকর্তা এই ধরণের কথা বলার পরে বিজ্ঞানীরা ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দ্বিমত পোষণ করেছেন । একপক্ষের মতে, আই আই টি খড়্গপুরের মত প্রতিষ্ঠানে এই সব গল্প কথা শুনিয়ে বিজ্ঞান চর্চাকে এক ভয়ঙ্কর দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে । অন্য পক্ষের দাবি, প্রাচীন ভারতে জ্ঞান বিজ্ঞানের অনেক কিছু ছিল ও বলা হয়েছে যা পরে অনেক উন্নত দেশ গ্রহণ করেছে । তাই পুষ্পক রথেরবৈজ্ঞানিক ভিত্তি কী ছিল ও তা আদৌ ছিল কী না তা জানতে গবেষণা করে দেখা যেতেই পারে ।

You may also like

Leave a Reply!