Home পাঁচমিশালি ড্রাগন কি কেবল আমাদের কল্পনা নাকি সত্যি! বিজ্ঞান কী বলছে?

ড্রাগন কি কেবল আমাদের কল্পনা নাকি সত্যি! বিজ্ঞান কী বলছে?

by banganews

ডায়নোসর। নামটা শুনলেই ভয় এবং রোমাঞ্চ দুই একসঙ্গে হয়৷ প্রায় দু’কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে বসবাস করেছে ডায়নোসর৷ তারপর বিবর্তনের নিয়মে তারা একসময় সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীর নানা প্রান্তে বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন ডায়নোসরের জীবাশ্ম। এই সকল জীবাশ্ম পরীক্ষা করে আনুমানিক একটা ধারণা তৈরি করা গেছে ডায়নোসরের আকার-আকৃতি বিষয়ে। তবে প্রকৃতপক্ষে তাদের দেহের গঠন কিংবা আচার আচরণ,ইত্যাদি কেমন ছিল তার তেমন কোনো প্রমাণ নেই। পুরোটাই বিজ্ঞানীদের গবেষণা এবং তা থেকে প্রাপ্ত অনুমানের ওপর ভিত্তি করে । আমরা সিনেমাতে, টিভিতে কম্পিউটার গ্রাফিক্স অ্যানিমেশনের মাধ্যমে বানানো যেসব ডায়নোসর দেখি, যাদের শব্দ শুনি, অনুমান করা হয় হয়ত খানিকটা এমনই দেখতে ছিল বাস্তবের ডায়নসরেরা। কিছু প্রজাতির ডানা ছিল এবং তাদের মুখ দিয়ে আগুন বের হত, এমন কাল্পনিক প্রাণীদের আমরা ড্রাগন বলে অভিহিত করি৷

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটির জীবাশ্মবিদদের গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ বাস্তবে ড্রাগনের কাছাকাছি কোন প্রাণী হতে পারে তার সন্ধান তারা পেয়েছেন।
জীবশ্মবিদ এবং এই বিষয়ের লেখক টিম রিচার্ডস এই প্রাণীর জীবাশ্মের চোয়াল পরীক্ষা করেই এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। তাঁর মতে,এই ড্রাগনের সমগোত্রীয় প্রাণীটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার আকাশে উড়ে বেড়ানো সর্ববৃহৎ সরীসৃপ। থাপুনগাকা সই নামের এই টেরোসরটির ডানা প্রায় ২৩ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত। আনুমানিক ১০৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে কুইন্সল্যান্ডের আকাশে এই সরীসৃপ উড়ে বেড়াত বলেই অনুমান৷ টিম রিচার্ডস এর মতে, টেরোসরটির মাথার খুলি প্রায় ৩ ফুট লম্বা। একটি লম্বা গ্রীবা,যার সঙ্গে যুক্ত ছিল দু’জোড়া ডানা। প্রায় ৪০টি দাঁত ছিল এই প্রাণীর, যার সাহায্যে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করে খেত এরা অস্ট্রেলিয়ার এরোমাঙ্গা সমুদ্র থেকে৷
একটি বিবৃতিতে টিম জানান, “টেরোসর সরীসৃপদের মধ্যে একটি বৈচিত্র্যময় প্রজাতি, সম্ভাবত এরাই প্রথম মেরুদণ্ডী প্রাণী যারা খুব উঁচুতে উড়তে পারত।”
অস্ট্রেলিয়ায় খুঁজে পাওয়া এটি টেরোসরের তৃতীয় প্রজাতি। তিনটি প্রজাতিই পশ্চিম কুইন্সল্যান্ডে পাওয়া গেছে৷ এই প্রজাতির হাড় খুব পাতলা এবং ফাঁপা। কিন্তু তবুও হাড়গুলো এখনও অবশিষ্ট রয়েছে দেখে অবাক হয়েছেন জীবশ্মবিদরা।

You may also like

Leave a Reply!