Home বিনোদন “সকলে বলেছে আপনার কথা ” গুলজারকে সত্যজিৎ, ফিরে দেখা তাঁর জন্মদিনে

“সকলে বলেছে আপনার কথা ” গুলজারকে সত্যজিৎ, ফিরে দেখা তাঁর জন্মদিনে

by banganews

Yes, I was to complement you. Every one had told me about you.’ বলেছিলেন সত্যজিৎ রায়৷ কারণ মানিকদাকে সকলে বলেছিলেন তাঁর কথা৷ তিনি আর কেউ নন৷ শব্দের সম্রাট গুলজার।  আজ তাঁর জন্মদিন৷ পুরো নাম সম্পূরান সিং কলরা, তাঁকে আমরা গুলজার নামেই চিনি।

খবরটা হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায়ের কাছ থেকে পেয়েছিলেন, ‘উনি’ দেখা করতে চেয়েছেন। সোজা চলে গেলেন ‘সান অ্যান্ড স্যান্ড’ হোটেলে। একটি ডিপ ব্যারিটোন বেজে উঠল, ‘গুলজার’!
থতমত খেয়ে গিয়েছিলেন গুলজার, ‘আজ্ঞে হ্যাঁ, মানে…’

 

শব্দ নিয়ে খেলা করা তাঁর শখ। আর পছন্দ সাদা রঙ।  কারণ এই রঙ তার কাছে ক্যানভাসের মত৷  কার্যত কলেজ জীবন থেকেই সাদা পোশাক পরতে অভ্যস্ত গুলজার সাহেব।

‘পান্তাভাতে’ বইতে  গুলজার লিখছেন, ” এত ভাল ইংরেজি কেউ যে বলতে পারে, না শুনলে বিশ্বাস করা যায় না। আর ওই গলার আওয়াজ, ওই উচ্চারণ, এমনকী ইংরেজি বলার সময় শরীরি ভঙ্গিমাও যেন এক জন পাক্কা ইংরেজের মতো। অথচ যেই বাংলায় কথা বলতেন, তখন একেবারে চেনা বাঙালি। আর বাকি সময় অপরিচিত, ডিসট্যান্ট।”

সেই সময় ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ হিন্দিতে করবেন সত্যজিৎ।  সিনেমার স্ক্রিপ্ট আর গান নিয়েই গুলজারের সঙ্গে আলোচনা করবেন৷ গুলজারের ভাষায়, ” প্রথমেই দেখলাম, ওঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা গুগাবাবা’র বাঙালি ফ্লেভারটা হিন্দিতে করতে গিয়ে যেন নষ্ট না হয়। আমার এত ভাল লেগেছিল ব্যাপারটা, যে একজন বিশ্ব-পরিচিত পরিচালক তাঁর মাতৃভাষার বিশেষত্ব ও মাধুর্ষের ব্যাপারে কোনও ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট’ করতে রাজি নন। আমায় বললেন, ‘তুমি গুপী গাইন দেখেছ?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, দেখেছি।’ ‘ আচ্ছা বলো তো, ‘সাধাসিধা মাটির মানুষ’ এই কথাটা কী ভাবে অনুবাদ করবে ?’ আমার মাথায় তখুনি যা এল বললাম, ‘ সাধাসিধাকে খুব পালটানোর তো দরকার নেই, ও রকমই রাখা যেতে পারে।’ তাতে উনি খুব আশ্বস্ত হলেন, ফের দুটো জলদগম্ভীর, ‘Good, good.’
কলকাতায় ফিরে এলেন গুলজার। সত্যজিতের সঙ্গে চিত্রনাট্য নিয়ে বিস্তারিত কথা হল। ওঁর অ্যাসিস্ট্যান্টকে বললেন স্ক্রিপ্টটা নিয়ে আসতে। তার পর সেটা দেখে গানগুলো নিজে হাতে লিখে দিলেন। মুগ্ধ গুলজার, ”

বিশ্ববিশ্যাত মানুষ হয়েও প্রতিটি ছোট কাজের প্রতি এত নিখুঁত৷ তাঁর হাতে লেখা সেই কাগজগুলো রেখে দিয়েছেন গুলজার৷ কাজটা যদিও হল না  কিন্তু সম্পর্ক চিরস্থায়ী হল৷ “নিউ থিয়েটার্স এ তরুণ মজুমদারের সঙ্গে কাজ করতে গেলে মানিকদার এডিটিং রুমে গিয়ে দেখা  করে আসতেন গুলজার৷

মানিকদার একটা কথা ভাবিয়েছিল গুলজারকে৷
” if we dont have money to spend on it, we have to spend our brain.” অর্থাৎ টাকা না থাকলে মগজ খাটাও৷

এরপর  ‘পথের পাঁচালী’তে অপুর মা সর্বজয়া ওরফে করুণা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘প্রফেসর শঙ্কু’র গল্প নিয়ে দিল্লি দূরদর্শনে হিন্দি সিরিয়াল করতে চাইলেন।  চিত্রনাট্য লেখার দায়িত্ব গুলজার এর৷ কিন্তু কিছুদিন পর খবর পেলেন, সিরিয়ালটি হবে না। দ্বিতীয়বারও ‘মানিকদার’ সঙ্গে কাজ করা হল না!

শতরঞ্জ কে খিলাড়ি’ করবেন সত্যজিৎ। দেকজা করেই গুলজার জানালেন  ” মানিকদা, আমি শতরঞ্জ কে খিলাড়িতে কাজ করতে চাই। স্ক্রিপ্ট লিখব।’ কিন্তু ততদিনে চিত্রনাট্য লেখার কাজ অন্য কাউকে দিয়ে ফেলেছেন সত্যজিৎ! এবারেও হল না ইচ্ছেপূরণ।

You may also like

Leave a Reply!