Home বাংলা মমতার দেওয়া জিলিপি পাঁপড় মুহূর্তের মধ্যে সাফ করে ফেলেছে দিলীপ

মমতার দেওয়া জিলিপি পাঁপড় মুহূর্তের মধ্যে সাফ করে ফেলেছে দিলীপ

by banganews

সর্বদল বৈঠকে একের পর এক অভিযোগ করছিলেন দিলীপ ঘোষ। শেষে মুখ্যমন্ত্রীর আতিথেয়তায় মিষ্টিমুখ, জিলিপি পাঁপড়ভাজা – মধুরেন সমাপয়েৎ

প্রথমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কোনও বৈঠকে মুখোমুখি হলেন দিলীপ ঘোষ। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিজেপির রাজ্য সভাপতির বাকযুদ্ধ প্রতিদিনের। তবে সেটা দূর থেকে। কিন্তু এদিনই প্রথমবার নবান্নে কোনও সর্বদল বৈঠকে হাজির থাকলেন দিলীপবাবু।

সর্বদল বৈঠকেও একের পর এক অভিযোগ পেশ করেন দিলীপ। জবাব দিতে মুখ্যমন্ত্রীর থেকেও বেশি সরব হন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, সাংসদ সুব্রত বক্সি। সব মিলিয়ে তুমুল হইচই। একটা সময়ে পরিস্থিতি এমন হয় যেন বৈঠকে গলার জোরের প্রতিযোগিতা চলছে।

আরও পড়ুন করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে নবান্নে সম্পন্ন হল সর্বদল বৈঠক

 

রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে এই নিয়ে দু’বার সর্বদল বৈঠক ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৩০ জুন কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষিত আনলক ওয়ানের মেয়াদ শেষ হলে রাজ্য কোন পথে হাঁটবে তা নিয়েই মূলত আলোচনার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে এদিন রাজ্যে পুলিশের আচরণ থেকে রেশন ব্যবস্থার দুর্নীতি সব অভিযোগ নিয়েই সরব হন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ৷

রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও বাম নেতাদের তরফে মূলত সুজনবাবুই বলেন। মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তিনি স্পষ্টতই বলেন, ত্রাণের নামে লুঠ চলছে। সুজনবাবু বলেন, উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ বন্ধ, গ্রুপ ডি-তে নিয়োগ হচ্ছে না, জীবিকা সেবকরা ৩৮ মাস ধরে মাইনে পাচ্ছেন না, অথচ সরকারের নিজস্ব ঘর বাড়ি সাজাতে ৪০০ কোটি টাকা খরচ করছে।
তবে গলার জোরে সবাইকে ছাপিয়ে যান দিলীপ। কার্যত চুপ করেই থাকেন বৈঠকে হাজির অন্য দুই বিজেপি প্রতিনিধি জয়প্রকাশ মজুমদার ও মনোজ টিগ্গা।

আরও পড়ুন দিল্লি দাঙ্গা কাণ্ডে জামিন পেলেন গর্ভবতী ছাত্রী সাফুরা জারগার

 

এদিন অভিযোগের সুরে দিলীপ মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, এই রাজ্যে পুলিশের কাজই হয়ে গেছে বিজেপিকে আটকানো। লকডাউন থেকে আম্ফান সব ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাইলে বাধা দেওয়া হচ্ছে বিজেপি কর্মীদের৷ এটা ঠিক হচ্ছে না। বৈঠকে হাজির তৃণমূল কংগ্রেসের অন্য নেতারা জবাব দিতে গেলে দিলীপ ঘোষ বলেন, আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করছি। তিনিই জবাব দেবেন। আপনাদের কথা আমি শুনব না।

সকলকে চুপ করানোর চেষ্টা করার পাশাপাশি মন দিয়ে অভিযোগ শোনেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী তিনি দিলীপ ঘোষের কাছে এটাও জানতে চান যে নির্দিষ্ট কোনও পুলিশ কর্তা বা কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে কিনা। জবাবে রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন, কাকে বাদ দিয়ে কার নাম করব! জেলার সব পুলিশই তাই করছে।

দিলীপ এদিন বৈঠকে বলেন, একের পরে এক তৃণমূল নেতা, কর্মী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাই বুঝিয়ে দেয় রাজ্যে ঠিক মতো লকডাউন মানা হয়নি। বিশেষ করে তৃণমূল নেতারা লকডাউন মানেননি। দিলীপ বৈঠকে প্রশ্ন তোলেন, এই রাজ্যে অতীতে একদিনের নোটিসে দুর্গত এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর চলে আসার নজির নেই। সেটাও করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তবু রাজ্য সরকার অসহযোগিতা করেছে।

প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে বিরোধী দলের প্রতিনিধি হিসেবে সব থেকে বেশি সরব ছিলেন দিলীপই। এদিন রাজ্যে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর কথা মুখ্যমন্ত্রী বললেও প্রশ্ন তোলেন দিলীপ। বলেন, কী হবে লকডাউন বাড়িয়ে? এই রাজ্যে যেভাবে লকডাউন হচ্ছে তাতে লাভের লাভ কিছুই হচ্ছে না।

এদিন বৈঠক থেকেই ঠিক হয় একটি সর্বদল কমিটি তৈরি করা হবে। দিলীপ ঘোষ এদিন ওই কমিটির মাথায় রাখার জন্য রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সূর্যকান্ত মিশ্রর নাম বলেন। যদিও তাতে রাজি হননি সুর্যবাবু। সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, নিয়ম অনুযায়ী শাসকদলের কোনও প্রতিনিধিরই কমিটির মাথায় থাকা উচিত। শেষ পর্যন্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায় থাকবেন বলে ঠিক হয়। সূর্যবাবু ও দিলীপবাবু অবশ্য ওই কমিটিতে থাকতে রাজি ‌হন।

যে কোনও বৈঠকে অতিথি আপ্যায়নের ব্যাপারে কোনও ত্রুটি রাখেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকালই গেছে রথযাত্রা। সেই কথা মাথায় রেখেই সম্ভবত এদিন বৈঠকের মেনুতে ছিল জিলিপি আর পাঁপড় ভাজা। সঙ্গে অবশ্যই চা। তবে বিভিন্ন দলের বয়স্ক প্রতিনিধিরা কেউই তেমন ভাবে জিলিপি, পাঁপড়ের দিকে হাত বাড়াননি। দিলীপ ঘোষের প্লেট অবশ্য খালি হয়ে যায় মুহূর্তে। একগাদা তিক্ত কথা বলার পর একটু মিষ্টিমুখ করতেই হয়।

You may also like

Leave a Reply!