Home দেশ “খরচ আকাশছোঁয়া, আলুর ফলন ও দাম হবে তো? নইলে কিন্তু…” বঙ্গ নিউজ়ের বিশেষ প্রতিবেদন

“খরচ আকাশছোঁয়া, আলুর ফলন ও দাম হবে তো? নইলে কিন্তু…” বঙ্গ নিউজ়ের বিশেষ প্রতিবেদন

by banganews

 

অন্তু ঘোষাল, নিজস্ব প্রতিনিধি: আলুর ফলন এবং দাম নিয়ে এবার পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরা বেশ চাপে আছে বলা যায়। যদিও বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে দাম নিয়ে কিছুটা আশাবাদী বাংলার কৃষকরা। আলুর ফলন ও দাম কী রকম হতে পারে এনিয়ে একাধিক কৃষকের সঙ্গেই কথা বলেছিলেন বঙ্গ নিউজ়ের প্রতিনিধি অন্তু ঘোষাল। আমাদের প্রতিনিধির কাছে উদ্বেগের কথা শুনিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুর ও হুগলির অনেক চাষীরাই।

নীলেশ ঘোষ, কৃষক: নীলেশবাবু জানান, এবার অন্যবারের তুলনায় শীত কম। তাই আলুর ফলন সেভাবে হবে না বলেই মনে হচ্ছে। এদিকে আবার বিঘাপ্রতি আলুচাষে খরচ প্রায় ৫০হাজার টাকা। তাই যদি ফলন কম হয় সেক্ষেত্রে চাষীর লোকসান হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। এরসঙ্গে পাল্লা দিয়ে কুইন্টল প্রতি আলুর দাম যদি কমে তাহলে তো এবার চাষীদের মাথায় হাত পড়বে।

দীপঙ্কর বাগচী, কৃষক: দীপঙ্করবাবু একটু অতিরিক্ত-ই উদ্বিগ্ন। এবার ১০বিঘা আলুর চাষ তাঁর। ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন তিনি। খানিকটা করুন স্বরে আমাদের প্রতিনিধিকে বললেন, “কী যে হবে কিছুই বুঝতে পারছি না। শীত নেই। দামও ক্রমশ কমছে। এবার দর নাম পেলে কোথায় যে গিয়ে দাঁড়াব?”

সোনি নন্দী, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী: তিনি বললেন, “দেখুন আমাদের জেলায় মানুষের খাওয়া, মাখা ও পরা এই আলু। আমি যেহেতু চাষের পাশাপাশি ব্যবসাও করি তাই ক্ষুদ্র কৃষকদের ঋণ দিতে হয়। প্রায় ২০০ জনের বেশি কৃষক আমার কাছ থেকে সার ও আলুবীজ ধারে নিয়ে গেছেন। দাম না হলে এবার সেই পয়সা আদায় হওয়া মুশকিল। তার উপর শীতও তেমন নেই। কী যে করি?”

চিন্তাময় মহাপাত্র, কৃষক: চিন্তাময়বাবুর আবার অন্য সমস্যা। যদিও তার সঙ্গে আলুর ফলন ও দাম হওয়ার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বললেন, “আগের বার দাম হয়েছে। কিন্তু, কৃষকরা পাননি। পেয়েছেন ব্যবসাদাররা। নিজের চোখে দেখেছি ২ থেকে ২.৫ লাখ টাকা আলুর গাড়ি (প্রতি ১০০ কুইন্টলে আলুর দাম)। কিন্তু, মোটা টাকা পেয়েছেন ব্যবসাদাররা। আমাদের কপালে জোটেনি কিছুই। এবার আলু লাগিয়েছি বিঘে পাঁচেক। সামনে মেয়েটার বিয়ে। ভগবানকে ডাকুন যেন একটু দাম পাই।”

ছবি বিশ্বাস, ব্যবসায়ী: তিনি বলেন,” আলু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছি তা বছর দশেক হবে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। এবছরটা একেবারে আলাদা। এবার বিঘাপ্রতি আলু চাষের খরচ মাত্রা ছাড়িয়েছে। দাম না পেলে অনেক চাষীর অবস্থাই খারাপ হয়ে যাবে।” তিনি আবার আলুর দাম হওয়া নিয়ে এবার ভোটের দোহাইও দিয়েছেন। বলেন, “এবছর তো ভোট আছে। তাই দিদি কিছু একটা ব্যবস্থা নিশ্চই করবেন।”একাধিক কৃষকদের সঙ্গে কথা বলার পর বেশ কয়েকজন কৃষি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছিলাম আমরা। তাঁরা জানালেন, গত কয়েকবছর ধরে আলুর দামের ওঠানামা ও ফলনে ব্যাপক হেরফের হচ্ছে। কারণ এখন পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও একাধিক রাজ্যে আলু চাষের ফলন বেড়েছে। যার মধ্যে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ সহ একাধিক রাজ্য। ফলে এরাজ্যের আলু ভিনরাজ্যে বিক্রির পরিমাণ অনেকটাই কমেছে। দামের এই হেরফেরের প্রধান কারণ এটাই। চাহিদার তুলনায় দেশজুড়ে যোগানও বেড়ে যায় কখনও। তবে মাস কয়েক আগে আলুর দাম বেড়ে গিয়েছিল খুব। এপ্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য, ভিনরাজ্যের যেখানে আলুর ফলন হয় সেখানে সেভাবে ফলন না হওয়ায় বেড়ে গিয়েছিল দাম। এবার ঠিক কী হতে পারে তা অবশ্য আগে থেকে বলতে পারছেন না।

এনিয়ে আমরা জেলা কৃষি আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তিনি জানালেন, এবার আলুর ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ আলুর ভালো ফলন হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আবহাওয়া এরাজ্যে সেরকম দেখা যাচ্ছে না। তবে সরকার বিষয়টি নজরে রাখছে। আলু চাষের ক্ষেত্রে কৃষকদের আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সঙ্গতি যাতে থাকে সেজন্য সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি খোদ বিষয়টি নজরে রাখছেন বলেও জানান ও কৃষি আধিকারিক।

You may also like

Leave a Reply!