Home বঙ্গ ‘বয়স কেবল সংখ্যা মাত্র’ – প্রমাণ করে বিয়ের পিঁড়িতে বাহাত্তুরে যুবক

‘বয়স কেবল সংখ্যা মাত্র’ – প্রমাণ করে বিয়ের পিঁড়িতে বাহাত্তুরে যুবক

by banganews

শ্রীরামপুর, ১২ অগাস্ট, ২০২০ :  জীবনে ভাল থাকার, ভালভাবে বাঁচার অধিকার সকলেরই রয়েছে। তাই কুরুচিকর মন্তব্যে কান না দিয়ে নিজের ভাল থাকার মন্ত্র খুঁজে নিলেন ৭২ বছরের বাংলার অধ্যাপক। হুগলির শ্রীরামপুর বড় বাগানের বাসিন্দা সমরেন্দ্র ঘোষ আইনি ও সামাজিক রীতি মেনে বিয়ে করলেন রিষড়ার বাসিন্দা ইরা রায়কে।

আরও পড়ুন : ১১ বছরে প্রথমবার অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন ইউনাইটেড কিংডম

২২ বছর রিষড়ার বিধানচন্দ্র কলেজে বাংলা পড়িয়েছেন সমরেন্দ্রবাবু। ২০০৮ সালে অবসর নেন তিনি। স্ত্রী মারা গিয়েছেন, মেয়ে থাকে বিদেশে। তাই বরাবর সঙ্গীর অভাব বোধ করেছেন। একাকীত্ব কাটাতে তাই কয়েক মাস আগে স্থির করেন আবার বিয়ে করবেন। শুভস্য শীঘ্রম প্রবাদ আওড়ে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনও দেন। বিজ্ঞাপন মারফত রিষড়ার ইরা রায়ের সঙ্গে সম্বন্ধ ঠিক হয় তাঁর। গত ২৭ জুলাই রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেন এই প্রবীণ অধ্যাপক। সোমবার সমরেন্দ্র বাবুর ফ্ল্যাটে সামাজিক বিবাহ সম্পন্ন করেন তারা। অধ্যাপকের বিয়ের বন্দোবস্তও অভিনব। কারণ পুরুষ পুরোহিতের পরিবর্তে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করলেন কবি মীনা রায়।

আরও পড়ুন : সুপার লিগে জায়গা হল না ইস্টবেঙ্গলের

সমরেন্দ্র বাবু বললেন, বাড়িতে নিঃসঙ্গ মনে হতো নিজেকে। বয়োঃবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে একাকীত্ব বাড়তেই থাকে। লকডাউনের শুরুতে একা থাকার দরুণ কার্যত দুদিন প্রায় কিছু না খেয়ে কাটিয়ে দেওয়ার অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেন অধ্যাপক।
নব বিবাহিতা ইরার বয়স ৩৬, বাবা মৃত, মা-মেয়ের অনটনের সংসার। কলকাতার একটি সংস্থায় কাজ করতেন ইরা, বছরখানেক হল সংস্থাটি বন্ধ হয়ে যায়। ইরা জানিয়েছেন, “সেভাবে বিয়ের ইচ্ছে ছিলো না, এক আত্মীয় কাগজে বিজ্ঞাপন দেখে সম্বন্ধের কথা জানান। এমন শিক্ষিত, রুচিশীল মানুষই চেয়েছিলাম”
সমরেন্দ্র বাবু বলেন, ” বহু মানুষ খারাপ মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ কেউ আমার পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।”

আরও পড়ুন : তিন শাবকের জন্ম বাঘিনী শীলার, আনন্দে বেঙ্গল সাফারি পার্ক

বৃদ্ধ মানুষের মন ও তাদের একাকীত্ব নিয়ে কাজ করছেন গবেষক অমিতাভ দে সরকার। এই বিয়ের খবরে তিনি উচ্ছ্বসিত। তাঁর মতে,”বয়স্ক মানুষদের সমস্যা, তাঁদের নিঃসঙ্গতা বোঝার মানসিকতা হারিয়ে ফেলেছেন অনেকেই। অসহিষ্ণু হয়ে তাদের সিদ্ধান্তের ভুল ব্যাখ্যা করেন বেশিরভাগ মানুষই। এই মানসিকতার বদল প্রয়োজন। নিজের মনের মত সঙ্গী খুঁজে কেউ যদি নিজের জীবনের নিঃসঙ্গতা কাটাতে চান এবং তাতে ভালো থাকেন, তা তো আনন্দের কথা।”
মনোসমাজকর্মী মোহিত রণদীপ জানিয়েছেন, “কেউ আসলে একা থাকতে পছন্দ করে না, প্রত্যেকের মধ্যেই সঙ্গীর চাহিদা থাকে। একজন বয়স্ক মানুষের সমস্যা বা চাহিদা তার জায়গা থেকে বিচার করা উচিত, গুরুত্ব দেওয়া উচিত তার ভাবনাকে।” অভিনেতা দীপঙ্কর দে ৭৫ বছর বয়সে বিয়ে করেছেন। রয়েছে পন্ডিত রবি শংকরের উদাহরণও। মনোসমাজবিজ্ঞানীরা চাইছেন সমরেন্দ্র বাবুদের মত মানুষের হাত ধরেই এমন আরও দৃষ্টান্ত তৈরি হোক। সকল বয়সের সব মানুষ ভালবাসায় থাকুক, ভাল থাকুক।

You may also like

1 comment

Leave a Reply!